শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

র ফি কু ল ই স লা ম

  • শাসকের অদৃশ্য মহাকাব্য
  • ২০২৬-১০-২৪ ১১:৫৯:৪৯

‎সোনার সিংহাসনে বসা এক মায়াবী জাদুকর,
‎তার আদিম ক্ষুধার থালায়—
‎উৎসর্গ হতে থাকে সমস্ত বুনো অরণ্য ।

‎নগরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বোনা এক অদৃশ্য মাকড়সার জাল,
‎যেখানে নিয়মের সুতোগুলো এক একটি ধারালো তরবারি,
‎আর দর্পণের ওপারে বসে থাকা একজোড়া পাথুরে চোখ
‎মেপে নেয় প্রতিটি নিশ্বাসের ওজন।

‎মহীরুহ চায় সমস্ত লতা তার পায়ে নুয়ে পড়ুক,
‎মেঘেরা বয়ে আনুক শুধু তার সাজানো বাগানের বৃষ্টি;
‎উন্নয়নের চটকদার মরীচিকার বিজ্ঞাপনে আজ
‎নদী হারিয়েছে তার আজন্মের মোহনা।

‎এখানে আলো আর ছায়ার মাঝখানে ন্যায়বিচার হলো—
‎দুটো বুনো পাথরের চাপে পিষ্ট হওয়া এক মুঠো নরম ঘাস।
‎একটি ডানার সামান্য ঝাপটানি,
‎কিংবা বাতাসের একটি অবাধ্য শিস—
‎আর অমনি কেঁপে ওঠে কাঁচের তৈরি সেই সাজানো খাঁচা।

‎ওরা উৎসবের আলো জ্বেলে সাম্যের বাঁশি বাজায়,
‎অথচ মাটির প্রদীপে নিভে যায় শেষ তেলের বিন্দু।
‎আসলে বনের ছোট ছোট পাতাগুলো—
‎কোনো স্বাধীন অরণ্য নয়;
‎তারা কেবলই ঝড়ের রাতে ঝরে পড়া
‎অসংখ্য নীরব দীর্ঘশ্বাসের সমান্তরাল খণ্ডচিত্র।

তবুও শেকড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অবাধ্য বীজ,
‎পাথরের বুক চিরে,
‎আলোর দিকে হাত বাড়িয়ে একাই লড়ে যায়।


এ জাতীয় আরো খবর