সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের যান চলাচল বেড়েছে,ট্রেন ছাড়েনি

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৭-২৫ ১৪:১৪:৩১

সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চ
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর সদরঘাট থেকে স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোয় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ এর হটলাইন নম্বর থেকে মোহাম্মদ আল ফায়েদ জানিয়েছেন, কারফিউ শিথিল হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে বেলা দুটা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে চাঁদপুর, নরিয়া ও ইলিশা রুটে লঞ্চ ছেড়ে গিয়েছে।সংবাদ বিবিসি বাংলার। 
এদিকে ভোর থেকেই চাঁদপুর ও বরিশাল থেকে ঢাকার সদরঘাটে নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চাঁদপুরে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। যেখানে কি না ঢাকায় কারফিউ শিথিলের সময়সীমা সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।
শনিবার কারফিউ জারি করা হলে নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষজন। মূলত বুধবার থেকেই চাঁদপুর-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল সীমিত আকারে শুরু হয়।

দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে
বহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে শুরু করে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বিবিসি বাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার কারফিউ শিথিল হওয়ার আগেই ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশে কয়েকটি বাস ছেড়ে যায়।
তবে বেশিরভাগ বাস ছেড়েছে কারফিউ শিথিল হওয়ার পর।
বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী তিন জেলায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য জেলায় কারফিউ শিথিলের সময় জেলা প্রশাসকরা নির্ধারণ করেছেন।
স্বল্প রুটের বাসগুলো কারফিউর সময়সীমার মধ্যেই গন্তব্যে গিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তবে দূরপাল্লার বাসগুলো একটি ট্রিপই দিতে পারছে। অনেক সময় এক ট্রিপেই কারফিউর সময়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
মূলত বুধবার থেকেই সীমিত পরিসরে দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে শুরু করে। তবে যাত্রী সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের বাস অর্থাৎ নগরের লোকাল বাসগুলো বুধবার থেকে স্বল্প মাত্রায় কোথাও কোথাও চলাচল করতে শুরু করে।
মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো চাইলে কারফিউর নিয়ম মেনে বাস চালাতে পারবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা 'কমপ্লিট শাটডাউন' ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রেন চালু হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকার স্টেশন স্থবির
বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প দূরত্বে কিছু যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দুপুর পর্যন্ত স্টেশন থেকে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন ছেড়ে যায়নি।
এদিকে ট্রেন চালু হওয়ার খবর পেয়ে সকাল থেকে যাত্রীরা রেল স্টেশনে ভিড় করলেও পরে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সহিংসতা শুরু হলে গত ১৮ই জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল।
এই সময়ের মধ্যে যারা আগাম টিকিট কিনেছেন তাদের রিফান্ড অনলাইন চালু হওয়ার পর দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন।
তবে যারা ভারত বাংলাদেশের রুটের টিকেট কেটেছিলেন তাদের রিফান্ড দেয়া হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহের তেলবাহী ট্রেন মঙ্গলবার থেকেই চলাচল করছে। মালবাহী কিছু ট্রেন বুধবার চলাচল করেছে।
বুধবার রেলওয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার কারফিউ শিথিল হওয়ার সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-জয়দেবপুর এবং ঢাকা-ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া রুটের কমিউটার ট্রেনগুলো পাঁচ ঘণ্টার জন্য চলাচল করবে।
এই সময়ের মধ্যে ট্রেনগুলো দুই থেকে তিনবার ট্রিপ করতে পারবে। এছাড়া রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চলাচল করার কথা ছিল।


এ জাতীয় আরো খবর