শুক্রবার, মে ৩১, ২০২৪

কিশোরগঞ্জে তীব্র তাপদাহ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

  • মো.ফারুকুজ্জামান,
  • ২০২৪-০৪-২৬ ০০:০১:১৯

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে প্রচন্ড গরমে ডায়রিয়া ও সর্দি কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। 
কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দুপুরে হাসপাতাল ‍ঘুরে দেখা গেছে, রোগীরা বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিচ্ছে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ আবিদুর রহমান ভূঞা জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাস কষ্টের রোগীই বেশি। হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগী বেশি ভর্তি থাকলেও সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ বেশি অসুস্থ হচ্ছেন। পেটের পীড়া, ঠান্ডাজ্বর, কাশি, সর্দি, ডায়রিয়া নিউমোনিয়া, পানি শূন্যতা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এদিকে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। সিট না পেয়ে বারান্দায় শুয়ে আছেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের অধিকাংশ রোগী, শিশু ওয়ার্ডেও একই চিত্র। মৌসুমি এসব রোগে আক্রান্তদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা দিতে ডাক্তার-নার্স নিয়োজিত আছেন। বেডের সমস্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট নেই।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার কোনো ত্রুটি নেই। তবে রোগীর চাপ বাড়ছে। ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব এখনও তেমনভাবে দেখা দেয়নি। জেলায় এখনও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে কলেরা স্যালাইন, খাবার স্যালাইন ও অন্য প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রচণ্ড রোদ ও গরমে শিশুদের যথাসম্ভব বাসায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কোনোভাবেই যেন তাদের বাইরে বের করা না হয়। কারণ, গরমে বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়।

 


এ জাতীয় আরো খবর