রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

শহীদ শান্তিপদ নাগ

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৪-০৩-২৬ ১০:৪১:১৮

অগ্নিঝরা মার্চ’৭১। ৭ মার্চের ভাষণ। উত্তাল দেশ । গ্রামে-গঞ্জে অনাগত ভয়াবহ সময়ের আশঙ্কায় কাতর মানুষ। চারিদিকে চাপা উত্তেজনা। পাকিস্তানী মিলিটারির টহল বৃদ্ধি। গ্রামের যুবকদের রাজাকার বাহিনীতে যোগদানের চাপ, ভয়ভীতি দেখানো । আলবদর বাহিনীর কলেবর বৃদ্ধি। শান্তি কমিটি গঠনের জোর তৎপরতা। সব মিলিয়ে ভয়াবহ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। এরই মাঝে যুবকদের যুদ্ধে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা । এমন পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ ১৯৭১  বিকেলে আমার আব্বা, এক ফুফাতো ভাই আর শান্তিপদ নাগ কাকা এই তিনজন চায়ের দোকানে একই বেঞ্চে পাশাপাশি বসে চা পান আর আলাপচারিতায় রত। তিনজনের মুখেই চাপ দাড়ি। হঠাৎ দু’গাড়ি মিলিটারি এল। মিলিটারি আসায় চারিদিকে নীরবতা নেমে এল, ইতস্তত লোকজন নিরাপদ আশ্রয় নিল। আমার আব্বা মাঝে তাঁর ডান পাশে ফুফাতো ভাই আর বাম পাশে শান্তি কাকা বসা। সান্ধ্য আইন জারি হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। গাড়ি থেকে লাফিয়ে কয়েকজন মিলিটারি নামলো । একজন সরাসরি বন্দুক তাক করলো আমার আব্বার দিকে। ক্ষণকাল অপেক্ষা তারপর সামান্য ঘুরিয়ে ট্রিগার চাপলো হায়েনাটা। মুহুর্তেই শান্তি কাকা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। নিথর তাঁর দেহ। স্বাধীনতার পথে প্রথম শহীদ  আমাদের শান্তি কাকা। ইতিমধ্যে চারিদিকে চাউর হয়ে গেছে যে মিলিটারির গুলিতে আমার আব্বা নিহত হয়েছেন। মিলিটারির গাড়ি চলে গেলে চারদিক থেকে লোকজন ছুটে এল, আমাদের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেছে।আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে গেলাম। তারপরতো ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল শান্তি কাকা।  
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে কাকিমা অনেক কষ্টে তাদের বড় করেছেন। এলাকার মানুষের সহমর্মিতা, সহযোগিতা পরিবারটিকে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। আজ ২৬ মার্চ ২০২৪।  প্রতি বছর মার্চ আসে আর স্মৃতির মণিকোঠায় উঁকি দেয় শান্তি কাকার মুখ।


এ জাতীয় আরো খবর