হিমের বায়ু হু হু করে
জরাজীর্ণ কুটিরে,
ছেঁড়া কাঁথায় জড়িয়ে মা
আগলায় তার-ই শিশুটিরে...।
বৃষ্টি হয়ে কুয়াশা ঝরে,
ভাঙা চালার ফাঁকে
শিশু কোলে শীর্ণ মায়ে
কতো কি যে আঁকে.…!
বাবা তার-ই কাজ করে যে
কোন সে দূরের গায়,
দেনার দায়ে আজ-ও তাদের
ভিটে রাখা দায়...।
পিটপিটিয়ে আলো জ্বলে
ঘরে সন্ধ্যা বেলা,
সলতে পুড়ে শেষ হয়ে যায়
আলো জ্বালার পালা।
শীতের রাতে আলগা গায়ে
ক্ষুধা লাগা পেটে,
মায়ের কোলে ঘুমায় শিশু
শুষ্ক দুধে চেটে...।
মায়ের বুকে সন্তান শুয়ে
তাপা লিয়া পরশে,
ঘুমের মাসির গল্প শুনে
মনো রাঙা হরষে।
আধেক রাতে ঘুম ভাঙে মার
সন্তানের -ই কোঁকানোতে,
তেল এইটুকু নেই যে ঘরে
জ্বালাবে আর সলতে।
শরীর মায়ের হীমে শীতল
নেই সেদিকে হুশ,
সোনাকে সে বুকে চেপে
দেয় উষ্ণতার পরশ
অভাব ঘরের নিত্য সঙ্গী
সাথে শীতের জ্বালা,
অন্ধকারে জ্বলে মায়ের
বুকের মানিক আলা...।
ভোর সকালে শিশির কণা
কুয়াশা চাদর পরে,
বেড়ার ফাঁকে উঁকি মারে
পর্ণ কুটির তরে...।
সূর্য যখন ছড়িয়ে দেয়
নরম আলোর রেশ,
জীর্ণ গৃহে ঢুকে তাহা
আনন্দ দেয় বেশ...।
এ ভাবে পার হয়ে যাচ্ছে
জীর্ণ ঘরে শীত,
বছর ঘুরে বছর আসে
নিয়ে মনের ভীত...।