মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,
শুভেচ্ছা জানবেন। আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা আপনার প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে সবিনয়ে আমাদের দু-চারটি কথা এবং আর্জি আপনার কাছে নিবেদন করছি। আমরা জেনে আনন্দিত যে, আপনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। খবরকে গুরুত্ব দেন। প্রকাশিত খবরের কোনো সমস্যার কথা উঠলে আপনি তা খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
আপনার নেতৃত্বাধীন সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে। এই পদক্ষেপ আমাদের আশার প্রতিফলন। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রক্ষাকবচ। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, মূলধারার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদের নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মূলধারার সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিকদের বৃহত্তম পেশাজীবী সংগঠন জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। এই চারটি সংগঠনের সবগুলোই এখন জামায়াত ও গুপ্ত জামায়াতের দখলে। সংগঠনগুলোর নাম ভাঙিয়ে জামায়াতের পক্ষে নানান অপকর্মে জড়িত তারা। বিগত ১৫ বছরে স্বৈরাচার জমানায় তারা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে গণমাধ্যমে নিজেদেরকে সুসংগঠিত করেছে। ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই গুপ্তরা বেশকিছু গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাদের সহযোগিতায় এখনও স্বৈরাচার হাসিনার অনুসারীরা গণমাধ্যম দখল করে রেখেছে। মূলত তারাই গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা ছড়াচ্ছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাব দখলে নিতে বিএনপি নামধারী কতিপয় গুপ্ত সাংবাদিক নেতাকে ব্যবহার করছে জামায়াত। দলটির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা সাংবাদিক নন এমন কয়েশত জামায়াত কর্মীকে সদস্য বানানোর চেষ্টা চলছে। লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিকতা নয়; তাদের মূল কাজ জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও চাঁদাবাজি। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই বিষেদগার করেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে (ডিইউজে) জামায়াত ও গুপ্ত জামায়াতের সদস্য সংখ্যা বেশি থাকায় কয়েক বছর ধরে কাউকে নতুন সদস্যপদ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নির্বাচন ছাড়াই কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বছরের পর বছর।
আপনি জেনে অবাক হবেন যে, জামায়াত মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলোতে দলটির কর্মী ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়না। অথচ বিএনপি মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলো এখনও স্বৈরাচার হাসিনার অনুসারী ও জামায়াত কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরুপ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দাবি, জামায়াত ও গুপ্ত জামায়াতের হাত থেকে পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন। বিএফইউজে ও ডিইউজে'কে এখনই জামায়াত থেকে আলাদা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রক্ষা করুন।
আপনার সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।
শ্রদ্ধাসহ-
ঢাকায় কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষে
আনিসুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক