প্রধানমন্ত্রীর সাথে ৬২ জন স্বতন্ত্র এমপির রোববার সন্ধ্যার বৈঠক নিয়ে জনমনে অনেক কৌতুহল ছিলো। স্বতন্ত্ররা সংসদে কী হিসেবে ভূমিকা রাখবেন এটা ছিলো কৌতুহলের মূল জায়গা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে স্বতন্ত্র এমপিদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তাদের কাছে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে যা যা ওয়াদা দিয়ে এসেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচন বানচালে যারা জ্বালাও পোড়াও করছে, তাদের ওপর নজর রাখতে বলেন শেখ হাসিনা। বলেন, একটা উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তারা স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তিতে বিশ্বাস করে না। দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এগুলো তাদের চরিত্র। যারা নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেছে তাদের ওপর যেন কোন আক্রমণ না হয় সে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
এবারই প্রথম সংসদে এতো সংখক স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা এই প্রথম সংসদে যাবেন। নবীন ও প্রবীণ এসব স্বতন্ত্র এমপিদের কাছে সংসদে সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।
একজন ছাড়া এই ৬২জন স্বতন্ত্র এমপির বাকি সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে শুধু প্রত্যক্ষভাবে যুক্তই নন। অনেকেই আছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে। এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবার তাদেরকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হয়। এই বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র এমপিরা সংসদে দলের এমপি হয়ে যাবেন কিনা এই কৌতুহলের উত্তর মেলে অনুষ্ঠানের শেষে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র এমপিরা স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকবেন। তারা সরকারি দলেও যাচ্ছে না এবং স্বতন্ত্রদের কোন জোট ও করছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের পর জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে নির্বাচনের সময় জনগণকে দেয়া অঙ্গিকার পূরণে কাজ করতে বলেছেন।
আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। সেখানে স্বতন্ত্রদের ভূমিকার প্রতি বিশেষ কৌতুহলী নজর থাকবে সবার।