বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

‘দুনিয়ার চা–খোর, এক হও, চা খাও’

  • লাইফ স্টাইল ডেস্ক:
  • ২০২১-০৬-০৬ ০৫:৫৬:৫২

লাইফ স্টাইল ডেস্ক: চা ছাড়া চলেই না—এমন বাঙালির সংখ্যা কম নয়। দিনে অন্তত এক কাপ চা তো চাই–ই চাই। পানির পর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় এটিই। চা নিয়ে আড্ডা, গল্প, গানের অভাব নেই। সাহিত্য, সিনেমা, গান, ফটোগ্রাফি, রূপচর্চা, পরনের কাপড়ে চায়ের প্রিন্ট—বাদ নেই কিছুই। সবখানেই চায়ের চর্চা চলছে তো চলছেই। চা–খোরদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে উঠেছে নানা গ্রুপ। সেখানে সবাই মিলে দিনে–রাতে উদযাপন করছে চা বিষয়টিকে।

অফিসে আসার পথে রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাঁটা চা দিবসের পোস্টার। চা নিয়ে বসে ফেসবুকে উঁকি দিতেই দেখি ‘চা–খোরকল্যাণ সমিতি’র পোস্ট। এই সমিতিতে যোগ দিয়েছেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ফেসবুকবাসী। চা নিয়ে তাঁদের মাতামাতির শেষ নেই। সেখানে চায়ের একটা সুন্দর ছবির সঙ্গে একজন জাতীয় চা দিবসকে উদযাপন করতে লিখেছেন, ‘দুনিয়ার চা–খোর, এক হও, চা খাও।’ এখানেই পাওয়া যায় চা নিয়ে নানা পোস্ট, মিম, অভিজ্ঞতা।

এক বছর দুই মাস হলো ভার্চ্যুয়াল চায়ের আড্ডার এই গ্রুপ খুলেছেন রাজধানীর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেসবাহ মুন্না। গ্রুপটি এখন ফেসবুকে দারুণ জনপ্রিয়। মেসবাহকে ফোন করে গ্রুপটি সম্পর্কে জানতে চাইলে বললেন, ‘২০২০ সালে লকডাউন শুরুর আগে আমরা সকালে, বিকেলে, রাতে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতাম। লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সেটাকে খুব মিস করতাম। তাই ভাবলাম, চায়ের আড্ডাটাকে অনলাইনে নিয়ে আসা যায় কি না। এরপর হু হু করে বাড়তে লাগল আমাদের সদস্যসংখ্যা। আমি ভাবিনি এমন অভাবনীয় সাড়া মিলবে, সবাই গ্রুপটাকে এভাবে আপন করে নেবে।’

এই গ্রুপেই চা খেতে খেতে লাইভে চা নিয়ে গান গেয়েছেন গানের দল ‘জলের গান’–এর রাহুল আনন্দ। সে কথা মনে করিয়ে দিতেই মেসবাহ বললেন, ‘রাহুলদা কিন্তু নিয়মিত আমাদের গ্রুপে লাইক, কমেন্ট করেন। গ্রুপের সদস্যসংখ্যা এক লাখ হলে তিনি বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছিলেন।’ গ্রুপ নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথাও ভাগ করে নিলেন এই তরুণ। জানালেন, মহামারি শেষ হলে তিনি যাঁরা রং–চা ভালোবাসেন আর যাঁরা দুধ–চা ভালোবাসেন—এই দুই দল নিয়ে একটা প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করতে চান। সে কারণে স্পনসরদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। চাকসবিডি নামে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটা অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে। সেখানেও অল্প সময়ে জুটে গেছে হাজার পাঁচেক অনুসারী।

এদিকে সিদরাতুল সাফায়াত ড্যানিয়েল ও ইপশিতা রুবাইয়াত ‘চা-চিত্র’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এক বছরও হয়নি এই অ্যাকাউন্টের বয়স। এর মধ্যে এই অ্যাকাউন্টকে ফলো করছেন ১৫ হাজার ১০০ ইনস্টাগ্রামবাসী। এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ড্যানিয়েল বলেন,‘চা আমরা কে না খাই! 

নান্দনিকভাবে চায়ের ছবি তুলতেও ভালোবাসি। কিন্তু চায়ের ছবিগুলো বিচ্ছিন্নভাবে একেকজন পোস্ট করেন। সেগুলো যাতে একসঙ্গে পাওয়া যায়, সে জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। আমাদেরকে ইনস্টাগ্রামে অনেকে সরাসরি ছবি পাঠান। আবার মেইলও করেন। আমরা সেগুলো প্রকাশ করি। প্রতি পাঁচ দিনের সেরা ছবিগুলোকে আলাদা অ্যালবামে রাখি। আমরা দারুণ সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিনই অসংখ্য ছবি জমা হয় মেইল আর ইনবক্সে।’

এভাবেই ভার্চ্যুয়ালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে চলছে চায়ের কাপে ঝড়।
সরফরাজ আহমেদ পাকিস্তান অধিনায়ক থাকার সময়ে তাঁকে ঘিরে সমালোচনা কম হয়নি। মুটিয়ে যাওয়া, ফিটনেস সমস্যার সঙ্গে বিরিয়ানিপ্রীতি নিয়েও কথা শুনতে হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ককে। মাঠে তাঁর নেতৃত্বেও খুঁত খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেকরা। রক্ষণাত্মক অধিনায়কত্বের জন্য কথাও শুনেছেন। অন্যদিকে ভারতের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি মাঠে আগ্রাসী দলনেতা, আর ফিটনেসেও বিশ্বসেরাদের একজন। এ দুজনের মধ্যে অধিনায়কত্ব নিয়ে তুলনা হতেই পারে, কিন্তু দুজনের অধিনায়কত্বের ধরন কি একই রকম?

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি মনে করেন, সরফরাজ ও কোহলির নেত্বত্বের ধরন একই রকম। মাঠে কোহলির অধিনায়কত্বের সঙ্গে সরফরাজের অধিনায়কত্বের মিল খুঁজে পান ডু প্লেসি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেছেন তিনি। দলনেতা হিসেবে সরফরাজকে মহেন্দ্র সিং ধোনির ঠিক বিপরীত বলে মনে করেন ডু প্লেসি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টের ট্রফি হাতে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টের ট্রফি হাতে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

আরব আমিরাতে ৯ জুন থেকে শুরু হবে স্থগিত হওয়া পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশ। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সে খেলছেন ডু প্লেসি, যে দলের অধিনায়ক আবার সরফরাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা অধিনায়ক ডু প্লেসির সরফরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে বলেন, ‘তারা (সরফরাজ ও ধোনি) বেশ আলাদা। ধোনি শান্ত ও চুপচাপ। মাঠে সে সহজাত মানসিকতা থেকে সবকিছু করে থাকে। কিন্তু সরফরাজ আলাদা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সব সময় কথা বলা আর বোলারদের সঙ্গে কথা বলার বিচারে তার (নেতৃত্বের) ধরন প্রায় বিরাট কোহলির মতো। অধিনায়কত্ব করতে ভালোবাসে সে এবং সেটা (মাঠে) তা দেখিয়েও থাকে।’

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৬ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ১৮টি জয় এনে দিয়েছেন ডু প্লেসি। ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে ৭৬ ম্যাচে তাঁর নেতৃত্বে প্রোটিয়াদের জয় ৫১টি। পিএসএলে খেলার মান নিয়েও সন্তুষ্ট ডু প্লেসি। বিশেষ করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পেসারদের অনেক উঁচুতেই রাখছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে একটি পার্থক্য তুলে ধরেন ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

তাঁর মতে, ভারতে পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের বৈচিত্র্য অনেক বেশি, ‘পিএসএলের মান খুব ভালো। এ টুর্নামেন্টে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে ফাস্ট বোলাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছি, যেখানে পেসারদের মোকাবিলা করে বেড়ে উঠতে হয়েছে। সবচেয়ে অবাক হয়েছি এখানে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করা বোলারদের সংখ্যা দেখে। আমার মতে, পিএসএলের সেরা দিক এই গতির বিষয়টিই।’

আইপিএল স্থগিত হওয়া নিয়েও নিজের হতাশা জানিয়েছেন ডু প্লেসি। যদিও সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে আইপিএলের বাকি অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেছে বিসিসিআই। ডু প্লেসি বলেন, ‘টুর্নামেন্টটি ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে আমরা নিরাপদেই ছিলাম। আমার মনে হয়, ভ্রমণের কারণে করোনা হানা দেওয়ার সুযোগটা সৃষ্টি হয়। তবে এটা দুঃখজনক যে আরেকটি টুর্নামেন্ট করোনার কারণে স্থগিত করতে হয়েছে। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ভালোই খেলছিলাম। তবে পিএসএলের মতো আইপিএলও সেপ্টেম্বরে আবার শুরু হবে।’


এ জাতীয় আরো খবর