সোমবার, মে ১১, ২০২৬

ব্যক্তিভিত্তিক কৃত্রিম ফুসফুসে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০১-২৩ ২১:৩৯:৪৬
ফাইল ছবি

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পথে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন যুক্তরাজ্যের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় তারা প্রথমবারের মতো এমন একটি উন্নত ‘লাং-অন-এ-চিপ’ প্রযুক্তি উপস্থাপন করেছেন, যা একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্টেম সেল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ড. ম্যাক্স গুতেরেসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় তৈরি কৃত্রিম ফুসফুসটি মানুষের প্রকৃত ফুসফুসের মতোই ত্রিমাত্রিক গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া প্রায় হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হয়েছে, যা আগের যেকোনো কৃত্রিম মডেলের তুলনায় বেশি বাস্তবভিত্তিক।
পূর্ববর্তী ‘লাং-অন-এ-চিপ’ প্রযুক্তিতে একাধিক ব্যক্তির কোষের সমন্বয় ব্যবহার করা হতো। এতে রোগের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণে ব্যক্তিভেদে পার্থক্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ত না। নতুন এই মডেলে শুধুমাত্র একজন ডোনারের স্টেম সেল থেকে ফুসফুসের অ্যালভিওলার ও রক্তনালীর কোষ তৈরি করায় এটি ওই ব্যক্তির ফুসফুসের একটি নির্ভুল ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে কাজ করছে।
গবেষণার সময় এই চিপে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমণ ঘটানো হলে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ফুসফুসের সুরক্ষা প্রাচীর ভেঙে পড়ার চিত্র দেখা যায়। এর মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের প্রাথমিক ও লক্ষণহীন পর্যায় প্রথমবারের মতো সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো-নির্দিষ্ট রোগীর কোষ ব্যবহার করে তার জন্য কোন অ্যান্টিবায়োটিক বা চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা আগেই যাচাই করা যাবে। ফলে চিকিৎসা হবে আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী, কমবে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের ঝুঁকি।
গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি প্রাণীর ওপর ওষুধ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এনে গবেষণাকে আরও মানবকেন্দ্রিক ও কার্যকর করে তুলবে। ভবিষ্যতে ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯ এবং ফুসফুসের ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ উদ্ভাবনে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কীওয়ার্ডস:লাং-অন-এ-চিপ,ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা,ফুসফুস গবেষণা


এ জাতীয় আরো খবর