মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

হাঁটার সহজ উপকারিতা: প্রতিদিন কয়েক পা বদলে দিতে পারে জীবন

  • ফিচার ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-২৫ ১৫:২২:৪৩
ছবি সংগৃহিত

প্রতিদিন সকালে অথবা সন্ধ্যায় পাঁচ হাজার, দশ হাজার কিংবা তার চেয়েও কম-কয়েক পা হাঁটলেই বদলে যেতে পারে শরীর, মন, এমনকি জীবনধারাও। এই ‘সহজ অনুশীলন’টি চিকিৎসকরা বলেন “সবচেয়ে উপেক্ষিত ওষুধ”। শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততায় হাঁটা হয়ে উঠতে পারে আপনার পরবর্তী জীবনের বাঁচার রুটিন।

১. মানসিক স্বাস্থ্যের অক্সিজেন
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা দূর করতে সহায়ক। বিশেষ করে সবুজ পরিবেশে হাঁটার অভ্যাস একধরনের থেরাপি হিসেবে কাজ করে, যা মানসিক চাপ কমায় এবং মনের প্রশান্তি বাড়ায়।
“হাঁটার মতো সুলভ, ঝুঁকিমুক্ত, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন আর কোনো থেরাপি নেই”-মনোবিজ্ঞানী ড. ফারহানা সুলতানা।

২. হৃদয়ের পাহারাদার
হাঁটা হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,
“প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটা হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২০–২৫% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।”

প্রাপ্তবয়স্ক মানুয়ের প্রতিদিন কত সময় হাটা উচিত?

৩. ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
হাঁটা হলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক অসাধারণ অনুশীলন। খাবারের পর ১৫–২০ মিনিট হাঁটলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। একই সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া (Metabolism) সক্রিয় থাকে, যার ফলে অতিরিক্ত চর্বি জমে না।
যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য তীব্র ব্যায়ামের চেয়ে ধারাবাহিক হাঁটা অনেক বেশি কার্যকর। হাঁটার সময় শরীর কম চাপ নিয়ে দীর্ঘসময় কাজ করে, ফলে ক্যালরি ক্ষয় হয় বেশি।

৪. হাঁটুর শক্তি ও হাড়ের স্বাস্থ্য
অনেকেই মনে করেন হাঁটা হাঁটুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আসলে ব্যাপারটা উল্টো। নিয়মিত হাঁটা হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়, যা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। হাঁটুর জয়েন্টে রক্তপ্রবাহ বাড়ে, ব্যথা কমে এবং নড়াচড়ায় স্থিতি আসে।

ধীরে হাঁটলে যেসব ক্ষতি হয়

৫. ঘুমের মান উন্নয়ন
যারা অনিদ্রায় ভোগেন বা গভীর ঘুম পান না, তাদের জন্য সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট হাঁটা হতে পারে এক চমৎকার ঘুমের ওষুধ। হাঁটার ফলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বাড়ে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

৬. প্রযুক্তি আসক্তির সহজ বিরোধিতা
আজকাল শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করা সবাই স্মার্টফোনে আসক্ত। হাঁটা একধরনের ডিজিটাল ডিটক্স। আপনি যখন হাঁটছেন, তখন আপনি প্রকৃতি দেখছেন, নিজের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, যা পরোক্ষভাবে মন ও চোখকে রিলিফ দেয়।

৭. বার্ধক্যে পা রাখলেও হাঁটা থামাবেন না
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে। তবে নিয়মিত হাঁটা শরীরে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে, পেশিকে সচল রাখে এবং আলঝেইমারসহ বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
“৮০ বছরের বৃদ্ধও যদি হাঁটার অভ্যাস রাখেন,তবে ৬০ বছরের চেয়ে বেশি ফিট থাকতে পারেন”-চিকিৎসকগণ মনে করেন।

হাঁটার কিছু সাধারণ ভুল যেভাবে এড়িয়ে চলবেন

হাঁটার কিছু ছোট টিপস:
সম্ভব হলে সকালে প্রকৃতির মাঝে হাঁটুন
মোবাইল হাতে না নিয়ে হাঁটার চেষ্টা করুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে হাঁটার অভ্যাস করুন
আরামদায়ক স্নিকার ব্যবহার করুন
সিঁড়ি ব্যবহার করে হাঁটার বিকল্প অভ্যাস করুন
ব্যায়াম করতে জিমে যাওয়া লাগে, সাঁতার শেখা লাগে, কিন্তু হাঁটার জন্য লাগে কেবল ইচ্ছা আর নিয়মিততা। চিকিৎসাবিদ্যা বারবার প্রমাণ করেছে-হাঁটা পারে হৃদয়কে সুরক্ষিত রাখতে, মনকে হালকা করতে, এমনকি মৃত্যুঝুঁকি কমাতেও।
আজ থেকেই শুরু হোক আপনার হাঁটার যাত্রা। কারণ প্রতিটি পায়ে পায়ে আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন আরও সুস্থ ও পূর্ণ জীবনের দিকে।


এ জাতীয় আরো খবর