ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিলে ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দ্রুত পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকিতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সোমবার হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন। ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়ার খবরের পর তাঁর এ বক্তব্য এল।
আল-বুখাইতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দিলে পাল্টা জবাব দিতে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে না। যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো দ্রুত হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত ব্যক্তিদেরও এসব স্থান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের দিকে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হুতিরা খামিস মুশাইতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে।
এর আগে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সোমবারও সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হয়নি। সৌদি রাজধানীতে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন তিনি। সোমবার হুতিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান।
সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটির অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠান ও জনগণের জন্য বড় পরীক্ষা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। দাম্মাম ও জেদ্দাগামী কিছু ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছে। বাহরাইনের গালফ এয়ার শনিবার পর্যন্ত রিয়াদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইনসও আটলান্টা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের সরকারকে সহায়তা দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সংঘাতের নতুন বিস্তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সতর্কবার্তা, লড়াই অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
ইয়েমেন যুদ্ধ, হুতি হুমকি, সৌদি আরব