মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

লতিফা জাহান

  • নদী পথে একদিন
  • ২০২৬-১০-১২ ২২:০৭:৪৯

১১ই অক্টোবর রবিবার। গতকাল রাত দশটায় ডলি আপার ফোন। আপা, বেড়াতে যাবেন? আমি প্রায় সাথে সাথেই বলে ফেললাম, যাবো। কারণ আমি জানি, পরদিন আমার কোনো কাজ নেই। আর, এতো কাজের ভীড়ে আজকাল কোথাও যাওয়া হয় না বললেই চলে। উনারা তিনজন এই উপলক্ষে একদিনের মধ্যে একসেট করে জামা বানিয়েছেন। আমাকে ছবি পাঠিয়েছেন এবং কথা দিয়েছেন, আমারটা পরে বানিয়ে দিবেন। আমি উনাকে মেসেজ দিলাম, আপা ঠিক আছে, বেড়ানো শেষ হয়ে গেলে তো ঐ জামাগুলিও পুরনো হয়ে যাবে। আচ্ছা, আপনার জন্য ফাইন করা হবে। এমনি দুস্টুমি করা। 
সকালবেলা চা খেয়ে তৈরী হয়ে নিলাম। নয়টায় জাতিসংঘ পার্ক থেকে রওনা হবেন সবাই। আমি ৭-১৫ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হলাম। দশ মিনিটে পৌঁছে গেলাম ডলি আপার বাসায়। দেখি, আমার আগেই জান্নাত আপা ও আয়েশার আম্মু এসে গেছেন। তিনজনে বসে গল্প করছিলেন। আমাকে দেখে আপা ম্যাচিং মালা আমাকে পরিয়ে দিলেন। আর বললেন, পরে দিয়ে দিবেন। আমি বললাম, না, তা হবে না। একটুপর আসলেন, জেসমিন আপা। উনাকেও মালা দিয়ে বরণ করা হলো। ঠিক ৯ টার সময় আমাদের নির্ধারিত গাড়ি এসে পড়লো। বাকি ৫ জন এসে পড়লে আমরা বেরিয়ে পড়লাম নাস্তা করতে কুটুম বাড়ি, ওয়াসা। 
সুপ্রিয় পাঠক ভাই বোনেরা, অনেকদিন পর এইরকম বর্ণনামূলক গল্প বা ভ্রমণকাহিনী লিখতে বসলাম। খাবার অর্ডার দিয়ে শুরু হয়ে গেল ছবি 
তোলা। আমি দুটি ছবি পেয়েই সবাইকে শেয়ার করে দিলাম। শুরু হয়ে গেল আমার পাঠকবৃন্দের 
কমেন্ট করা। আমি প্রায় সবাইকে তার উত্তর দিলাম। খাবার খেয়ে এবার সবাই গাড়িতে উঠে বসলাম। গন্তব্য কাপ্তাই হ্রদ  পর্যন্ত। 
সবাই গল্প করতে করতে আপাদের কারও কারও বাবার বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি দেখতে দেখতে এসে পড়লাম, বিএনএস শহীদ মোয়াজ্জেম নৌঘাঁটি। এর  অবস্থান কাপ্তাইয়ের উপকণ্ঠেই। যদিও বহুবার গিয়েছি, তবুও সবার সাথে  বেড়ানো এক অন্য মাত্রা এনে দেয়। আমরা প্রায় সবাই সমবয়সী, সবাই দাদু ও নানু। তাতে বিশেষ কি এলো আর গেলো। মূল উদ্দেশ্য বেড়ানো। প্রায় ৫০ জনের একটা গ্রুপ আছে। 
আলহামদুলিল্লাহ্! সময় ও সুযোগ মতো বেড়াতে ওস্তাদ সবাই। সবার সাথে কিছু না কিছু খাবার থাকে। পিঠা, আমসত্ব, তেঁতুল চাটনি, খেজুর, হোমমেড চানাচুর ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলি গল্প করতে করতে খাওয়া চলে। 
আমরা নেমে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এবার আবার এক সেশন ছবি তোলা হলো। এরি মধ্যে বোট ঠিক করে নিলাম। ঠিক হলো বেরাইন্না লেক যাবেন সবাই। একটু দূরে, আর রাঙামাটির প্রায় কাছেই। অনেকগুলি স্পট থাকলেও সবাই এখানেই যেতে চাইলো। খাবারের অর্ডারও এখান থেকেই দেওয়া হলো। তাহলে ঘুরে ফিরে ওখানে গিয়ে খেতে আর দেরী হবে না। অবশ্য রোববার বলে অতিথি তেমন কেউ ছিল না। আমরা কয়েক রকম ভর্তা, সাদা ভাত ও মাছ অর্ডার করলাম। 
দুপুর ২টার দিকে আমরা পৌঁছলাম বেরাইন্না। জায়গাটা অনেক সুন্দর। ওরা আমাদের অভ্যর্থনা জানালো। আমাদের জন্য টেবিল তৈরী ছিল। খাবার পরিবেশন করতে বলা হলো। একে একে সুস্বাদু সব খাবার এসে গেল। 
খাবার পর আবার ছবি তোলা চলতে থাকলো। ভিডিও চলছে সাথে সাথে, ফাঁকে ফাঁকে। কেউ কেউ তো ওস্তাদ আছেন। আমি কারও নাম প্রকাশ করে নিজে বিব্রত হতে চাই না, ভাই। 
এবার ফিরে যাবার পালা। দু'একটি জায়গায় কেউ কেউ নেমেছেন। কিছু দৃশ্য বা পাহাড়ি বাজার দেখতে।  
বোটওয়ালার কোনো আলস্য ছিল না, আমাদের  বিভিন্ন স্পট দেখানোতে। 
ফিরে আসলাম আবারও শহীদ মোয়াজ্জেম নৌঘাঁটিতে। 
এখানে দেখা গেল, সবাইকে আইসক্রিমের ভক্ত হয়ে যেতে। আমি সবিনয়ে বললাম ২৬ বছর হয়ে গেল, এসব খাই না। জান্নাত আপার এমনিই ইনসুলিন নিতে হয়। উনিই সবাইকে কিনে খাওয়ালেন  এবং নিজেও খেলেন। আমি আমারটা বোটের  পিচ্চিকে দিয়ে দিলাম। 
এবার ফিরে যাওয়া। আমার নার্গিস ভাবী আমাকে অনেকগুলি সুন্দর সুন্দর কবিতা ও গল্পের স্পট দেখাচ্ছেন পথে পথে। আমি উনাকে আশ্বস্ত করলাম, সব হবে। ক্রমশঃ প্রকাশ্য। কাপ্তাই থানা এলাকায় ঠিক কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে নতুন একটি 'নিসর্গ' নামের রেস্তোরাঁ হয়েছে দেখলাম। ওখানে সবাই চা খেতে চাইল। আমরা সবাই চা খেতে খেতে গল্প সল্প শেষ করে গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। খুব সুন্দর একটা দিন কেটেছে আমাদের। আবারও নতুন কোথাও ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে 
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবার আগে আমি নামলাম আমার বাড়ির কাছাকাছি। ধন্যবাদ সবাইকে। ????

চট্টগ্রাম 


এ জাতীয় আরো খবর