সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা ছড়াতে ৫ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-১৩ ০৯:৪১:৪৩

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা পৌঁছে দিতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পাঁচ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের জন্য মোট পাঁচ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অল্প সময়ের মধ্যে সিলেটসহ আরও কয়েকটি স্থানে ব্যাপকভাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। একই সঙ্গে কিডনি রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে নার্স নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের সরকারি চাকরিতে অন্তত দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়।
এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। কিন্তু ডায়ালাইসিসের সুযোগ মূলত ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকায় প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ সেবার ঘাটতি এখনো প্রকট।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণে পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে ডায়ালাইসিস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থী থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট কমাতেও নেওয়া হয়েছে পৃথক উদ্যোগ। প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ডায়ালাইসিস সেবা, কিডনি রোগ, স্বাস্থ্যসেবা


এ জাতীয় আরো খবর