দাগনভূঞা(ফেনী)প্রতিনিধি।
ফেনীর দাগনভূঞায়,দূর্নীতি, মাদ্রাসার অনিয়ম, লুটপাট ও অপকর্মের বিষয়ে অভিযোগ ও খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, কোরাইশ মুন্সি ফাজিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী শিক্ষক হারুনুর রশিদ (হারুন মাস্টার)। মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার সময় দাগনভূঞা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মো: ফখরুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মি আবু ছায়েদ।
বক্তব্যকালে সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম বলেন, ২৪ এর ৫ অগাষ্ট পরবর্তী সময়ে এলাকা ও মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিবাবক, এবতেতায়ী শিক্ষক হারুন মাস্টারের বিরুদ্ধে, মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেনের নাম বিক্রি ও প্রভাব বিস্তার করে মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের মাটি লুট, ঠিকাদার চাঁদা না দেয়ায় শ্রমিকদের উপর নির্যাতন, মাদ্রাসার, কংক্রিট নিয়ে নিজের গোয়ালঘর মেরামত, ছাত্রীদের শ্লীলতাহানী, মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রধানকে জিম্মি করে, হিসাব কিতাব নিজের হাতে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, মাদ্রসায় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে, দলীয় কাজে সময় ব্যায়, জুলাই যোদ্ধার মামলায় হস্তক্ষেপ করে টাকার বিনিময়ে আসামী খালাস, মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল কর্মি থেকে চাঁদা দাবীসহ অনেক গুলো অভিযোগ আসায়, আমি সহ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাক্ষ্য প্রমান পাওয়ায় ধারাবাহিক ভাবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গুলো অডিও ভিডিও আকারে প্রকাশ করি। ওনার বিষয়ে আমার ব্যাক্তিগত কোন আক্রোশ এই পর্যন্ত নেই। শুধু মাত্র ভিক্টিমদের অভিযোগ গুলো তথ্য প্রমান আকারে প্রকাশ করাতে তিনি আমাকে উক্ত মামলায় ১ নং বিবাধী করেন। এবং সামাজিক মাধ্যমে আমার পরিবার পরিজন ও ব্যাক্তিগত বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে মানহানী করেন। ওনি যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে এনেছেন, তা প্রমান করার দায়িত্ব ওনার। মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্ভট বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা।
ছাত্রদল কর্মী আবু ছায়েদ বলেন, বিগত ১৭ বছর হারুন মাষ্টার আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দালালী করেছে, কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো জামায়াত, এখন আবার আমাদের পরিবেশ মন্ত্রীর নাম বিক্রি করে বিভিন্ন অপকর্ম ও মানুষকে মামলা হামলা হুমকি ধামকি দিয়ে হয়রানী করে বেড়াচ্ছেন। ৫ তারিখের পরে ওনার কর্মস্থল কোরাইশ মুন্সি মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে, মাদ্রাসা মার্কেটের ভাড়া তুলে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। সকল শিক্ষক কর্মচারীদের জিম্মি করে রেখেছেন, মাদ্রাসার বিভিন্ন সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি মার্কেটের একটি দোকান মাইন উদ্দিন নামক এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেয়ার কথাবার্তা চুড়ান্ত করে ১০ হাজার টাকা বায়না করি। হারুন মাষ্টার জানতে পেরে এসে দোকানে তালা লাগিয়ে বলে আমার কথা ছাড়া এখানে কোন দোকান ক্রয় বিক্রয় বা ভাড়া হবে না। দোকান নিতে হলে আমাকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এই বলে তিনি দোকানের তালা মেরে চাবি নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ওনাকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে না পারায় আমি দোকান টা নিতে পারি নি।
উল্লেখ্য, গত, ৩ সেপ্টেম্বর, ফেনী জুড়িশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট ও দাগনভূঞা আমলী আদালতে একটি সি আর মামলা করেন। মামলা নং - ৫৯১/২৬। মামলার অভিযোগ তদন্তে ফেনী জেলা ডিবির ওসিকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আদালত।
মামলার আসামীরা হলেন, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মি মো: ফখরুল ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা, জামসেদ আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক, বিবি আয়েশা, ছাত্রদল কর্মি, আবু ছায়েদসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জন।
মামলার বাদী হারুন মাস্টার মামলার এজাহারে, অভিযোগ করে বলেন, গত ১ আগষ্ট ২০২৬ ইং শনিবার, সকাল সাড়ে ১১ টায় সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম এবং জুলাই যোদ্ধা জামশেদ আলম, তার কর্মস্থল, কোরাইশ মুন্সি, ফাজিল মাদ্রাসার সামনে, গতিরোধ করে, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। ৩ নং আসামী বিবি আয়েশা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তার মানহানী করেন, ৪ নং আসামী ছাত্রদল কর্মি, আবু ছায়েদ, মাদ্রাসার দোকানঘর সন্ত্রাসী দিয়ে জবর দখল করেন। এতে তিনি বাঁধা প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে বিগত, ১৭ আগষ্ট ২৬ ইং, ২য় বার ৪ বিবাদী মিলে তার গতিরোধ করে, তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এবং তাকে হত্যা চেষ্টা করেন।