বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

চিঠি-তোমার কাছে পৌঁছানোর ধীরতম পথ

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৯-০১ ২০:০১:১২

একসময় চিঠি মানেই ছিল
একটু অপেক্ষা,একটু অস্থিরতা,
খামের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা
একটি মানুষের পুরো মন।

ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই
দরজার দিকে ছুটে যেত কেউ,
হয়তো আজ এসেছে
প্রিয় মানুষের সেই প্রতীক্ষিত চিঠি।

একটি চিঠির জন্য
কত দীর্ঘ হতো বিকেল,
কত নির্ঘুম রাত-
আজকের দ্রুত পৃথিবী তা জানে না।

এখন বার্তা যায় এক মুহূর্তে,
ছবি যায়,কথা যায়,
তবু মানুষ পৌঁছায় না মানুষের কাছে।

‘কেমন আছ?’ লিখে
উত্তরের অপেক্ষাও থাকে না,
দুটি নীল দাগই যেন
সম্পর্কের শেষ প্রমাণ।

চিঠি এমন ছিল না-
সেখানে শব্দের চেয়ে
নীরবতারও একটা ভাষা ছিল।

কালির দাগে থাকত হাতের উষ্ণতা,
ভুল বানানে থাকত মানুষের সরলতা,
কাগজের ভাঁজে লেগে থাকত
একটি বিকেলের গন্ধ।

কেউ লিখত-
‘ভালো থেকো’,
আর সেই দুটি শব্দের ভেতর
লুকিয়ে থাকত অজস্র না-বলা কথা।

কেউ লিখত মাকে,
কেউ বাবাকে,
কেউ দূর শহরের প্রিয় মানুষটিকে-
কেউ লিখত,অথচ পাঠাত না।

আজ 
তাই পুরোনো খাম নয়,
ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে
আমাদের হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো।

হয়তো আবার লিখতে হবে-
‘তোমাকে মনে পড়ে’,
‘তোমার জন্য মন খারাপ’,
‘অনেকদিন কথা নেই,তবু তুমি আপন।’

কারণ যোগাযোগ বেড়েছে,
কিন্তু কমেছে হৃদয়ের কাছে আসা।

প্রযুক্তি আমাদের দ্রুত করেছে,
চিঠি আমাদের মানুষ করেছিল।

তাই চিঠি হয়তো হারায়নি,
হারিয়ে গেছে শুধু
চিঠি লেখার মতো মন।

আজও যদি কাউকে
সত্যিই কিছু বলতে চাও,
একটি সাদা কাগজ নাও-

সব কথা সুন্দর করে লিখতে হবে না,
শুধু সত্যিটুকু লিখে দাও।

পাঠাবে কি না
সেটা পরে ভাবা যাবে।

কারণ কিছু চিঠি
ঠিকানায় পৌঁছানোর জন্য নয়-

কিছু চিঠি লেখা হয়
একটি মানুষের হৃদয়ে
আবার ফিরে যাওয়ার জন্য।
 


এ জাতীয় আরো খবর