অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে মন্ত্রিসভায় গৃহীত অভিনন্দন প্রস্তাব সরকারি গেজেটে প্রকাশ করেছে সরকার।
গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়।
গেজেটে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সহায়ক কর্মী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সাফল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
শুধু জয় নয়,সক্ষমতারও প্রকাশ
মন্ত্রিসভার অভিনন্দন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয় কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়। এটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতার উজ্জ্বল প্রকাশ।
এই জয় দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অবস্থানও শক্ত হয়েছে। ৬৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বলে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে জানানো হয়েছে।
ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট বাংলাদেশের
ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয়। দলের এই বড় সংগ্রহ গড়তে তানজিদ হাসানের শতরান এবং সম্মিলিত ব্যাটিং ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
বল হাতে বাংলাদেশের সাফল্যও ছিল উল্লেখযোগ্য। ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে বড় ধরনের চাপে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ম্যাচের সব বিভাগেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে
মন্ত্রিসভা মনে করে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই জয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রস্তাবে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
টেস্ট জয়,ক্রিকেট,মন্ত্রিসভা