মহেশখালী (কক্সবাজার)
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত চিত্র উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইউএনও উপজেলার মুদিরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের পড়াশোনার সার্বিক অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক।
শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান পর্যবেক্ষণ, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ইউএনও ইমরান মাহমুদ ডালিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাদের পড়াশোনার বিষয়ে জানতে চান এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এতে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পাঠদান, উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ এবং নিয়মিত তদারকির গুরুত্বও এ পরিদর্শনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা,শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় পরিদর্শন কার্যক্রমে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত বড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা,স্বাস্থ্যবিধি ও সুস্থ জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতন করা হয়। শিশুদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যসচেতন তার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য একসঙ্গে নজরদারি, সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পাশাপাশি তাদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করাও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসচেতনতা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সবকিছু সমন্বিতভাবে দেখার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্য ও নিরাপদ বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।