চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত-২ এর এজলাস এবং বিচারকের খাসকামরা দু’দফায় ভাংচুরের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। গত সোমবার (১০ আগষ্ট) রাতে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারীআরিফুল ইসলাম সদর থানায় অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) বিকালে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ মামলায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয় নি জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত ও আসামী শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
এর আগে গত রবিবার (৯ আগষ্ট) বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে নেতাকর্মীরা পাল্টা অভিযোগ করেন ওই আদালতের বিচারক উজ্জল মাহমুদের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি ওই বিচারকের অপ্রাসঙ্গিক এবং দলীয় মন্তব্যের কারণেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। তাঁদের মোট ৫ নেতাকর্মী ওই আদালতে জামিন নিতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। এদিকে ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী জড়ো হন। পুরো পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার আদালতে আওয়ামী লীগ আমলের একটি মামলার জামিন প্রার্থণার জন্য প্রথম দফায় যান গ্রেপ্তারী পরোয়ানা থাকা ৪ নেতাকর্মী। কিন্তু শুনানীর শুরুতেই বহিরাগতরা ভিডিও করতে চাইলে তাঁদের নিষেধ করা হয়। এ সময় তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে শুনানী শেষে আদালত ওই ৪ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন আদেশ হবার পর আসামীদের একজন নিজের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে আদালত সে অনুমতি দেন নি। এরপরও তিনি বক্তব্য দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এ সময় আদালত ‘বিদ্যূৎ সমস্যার’ প্রতি দৃষ্টি আকর্যণ করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আসামীদের সাথে আসা লোকজন। তাঁরা হৈ হট্টগোল করেন এবং এজলাসের ও খাস কামারার দরজা,জানালার কাঁচ ভাঙ্গেণ। এ সময় বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। পরে দ্বিতীয় দফায় ওই মামলায় গ্রেপ্তার আরেকজনেকে জামিন আবেদনের জন্য আসামীর আইনজীবী খাস কামরায় হাজির করলে বিচারক চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে পরেরদিন তাঁকে হাজির করতে বলেন।
ওই ঘটনার ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিম বলেন, বিচারকের কথাবর্তা যথেষ্ট নিরপেক্ষ ছিল না। তিনি সরকারের প্রতি তীর্যক কথা বলেছেন। সে কারণে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রবিবার অমন বড় কিছু ঘটেনি। বরং ওই বিচারকের বিরুদ্ধে পূর্বেও এ ধরণের আচরেেনর অভিযোগ করেন মীম ফজলে আজিম।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসিব বলেন, বহিরাগত একটি গোষ্ঠি এজলাস ও খাস কামরায় দু’দফা ভাংচুরসহ যা ঘটিয়েছে তা কাম্য নয়। এতে আদালতের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। এটি ৫ আগষ্টের পর সৃষ্টি হওয়া মব কালচারের একটি রুপ। ঘটনাটি তীব্র নিন্দনীয়। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশের অন্তরায়। এ ধরণের ঘটনা বিচার বিভাগের প্রতি হুমকিস্বরুপ। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত। আদালতে রাজনৈতিক পরিচয় কাম্য নয়।
এদিকে মামলার আসামীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহব্বায়ক এড.রফিকুল ইসলাম টিপু এ ব্যাপারে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হন নি।