শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ,মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে ভয়াবহ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-০৬ ২৩:১৪:০৩

দেশজুড়ে গত জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক মাসে ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১০৬ জন ছিলেন পথচারী, যা মোট প্রাণহানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অন্যদিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। জুলাই মাসে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং মোট প্রাণহানির ৩৩ শতাংশের বেশি ঘটেছে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ঘটনায়।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় ৯৪ জন, বাস দুর্ঘটনায় ২১ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির ঘটনায় ১৯ জন, নসিমন, ভটভটি ও অন্যান্য স্থানীয় যানবাহনের দুর্ঘটনায় ২৬ জন, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় সাতজন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতীয় মহাসড়ক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে ১৬৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এছাড়া আঞ্চলিক সড়কে ১৫৫টি, শহরের সড়কে ৬৬টি, গ্রামীণ সড়কে ৬১টি এবং অন্যান্য স্থানে সাতটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সময়ের হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালবেলায়। মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ সকালেই সংঘটিত হয়েছে। এরপর রাতে ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, বিকেলে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১২ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ভোরে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি-উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন।
রাজধানী ঢাকায় জুলাই মাসে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে ১১টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকের অদক্ষতা ও বেপরোয়া আচরণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ন্যায্য কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সড়ক দুর্ঘটনা, মোটরসাইকেল, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন


এ জাতীয় আরো খবর