আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। এতে ধীরে ধীরে দেশের গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রতি দিনে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। এর ফলে এলএনজি থেকে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন (এমএমএসসিএফডি)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে, ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।
টার্মিনালটি অচল হয়ে পড়ার পর সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন আবাসিক গ্রাহকেরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের দীর্ঘ সময় চুলায় গ্যাস না থাকা কিংবা অস্বাভাবিক কম চাপের কারণে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকার ব্যবহার করে, আবার কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।
শুধু আবাসিক খাত নয়, শিল্পকারখানাগুলোও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানায়। একই সময়ে সিএনজি স্টেশনগুলোতে চাপ কমে যাওয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায় এবং কয়েকটি স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম সীমিত করে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলএনজি টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে বাসাবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
এলএনজি, গ্যাস সরবরাহ, জাতীয় গ্রিড