প্রকৃতি মানুষকে যে সবচেয়ে বিস্ময়কর উপহার দিয়েছে, তার অন্যতম হলো মস্তিষ্ক। এই মস্তিষ্কের কারণেই মানুষ চিন্তা করতে পারে, বিশ্লেষণ করতে পারে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পারে। অন্যান্য প্রাণী প্রধানত প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হলেও মানুষ যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও কল্পনাশক্তির মাধ্যমে নিজের জীবনকে পরিচালনা করে।
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ যখন বন্য পরিবেশে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছিল, তখন তার মস্তিষ্কই তাকে নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছিল। আগুন জ্বালানো, অস্ত্র তৈরি, আশ্রয় নির্মাণ এবং দলবদ্ধভাবে বসবাসের ধারণা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেরই ফল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বুদ্ধিমত্তা সভ্যতার ভিত্তি নির্মাণ করে।
আজকের পৃথিবীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবহন, কৃষি কিংবা শিল্পক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি আমরা দেখি, তার প্রতিটি ধাপে মানুষের মস্তিষ্কের অবদান রয়েছে। এই বুদ্ধিমত্তা মানুষকে শুধু বেঁচে থাকতে সাহায্য করেনি; বরং উন্নতভাবে বাঁচার পথও দেখিয়েছে।
তবে এই বুদ্ধিমত্তা তখনই কল্যাণকর হয়, যখন তা নৈতিকতা দ্বারা পরিচালিত হয়। অন্যথায় একই বুদ্ধিমত্তা প্রতারণা, দুর্নীতি, যুদ্ধ কিংবা শোষণের হাতিয়ারেও পরিণত হতে পারে।