শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক ভেঙে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন,যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ,দুর্ভোগে মানুষ

  • আব্দুস সাত্তার,
  • ২০২৬-০৭-২১ ২২:১৯:১৯

প্রতিনিধি টাঙ্গাইল :
প্রমত্তা যমুনার ভয়াল ভাঙনে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া অংশ ভেঙে যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।এতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ। 
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া তীব্র স্রোতের আঘাতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে মহাসড়কের একটি অংশ যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে মঙ্গলবার সকাল থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বর্তমানে যানবাহনগুলোকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়ে গেছে। সড়কের আরও কয়েকটি অংশ ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার গভীর রাতে শাখারিয়া এলাকায় ভাঙন শুরু হলে তারা বাঁশ ও গাছ ফেলে স্রোত ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবে তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শুধু জিওব্যাগ ডাম্পিং করে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে। তীব্র স্রোতের মধ্যেও শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জিওব্যাগ ও মাটি ফেলে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরির চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় রাকিব হাসান, মোর্শেদুর রহমান ও আব্দুর রশিদ জানান, রাতভর শ্রমিকদের সঙ্গে তারাও ভাঙন ঠেকাতে কাজ করেছেন। তবে জিওব্যাগ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। প্রতিবছর বর্ষা এলেই এই আঞ্চলিক মহাসড়ক নদীভাঙনের হুমকিতে পড়ে।
স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল হালিম তালুকদার বলেন, যমুনা কয়েকদিন ধরেই ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, সাবেক উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নুরই আলম জানান, শাখারিয়া এলাকার স্লুইসগেট সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্লকগুলো যমুনার তীব্র স্রোতের আঘাত সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরে পাউবোর শ্রমিক ও স্থানীয়রা মিলে জিওব্যাগ ও গাছ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ জানান, তিনি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং গত দুই দিন ধরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর