তারপর থেকে শহরটায় আমার আর কোনো স্থিরতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
রাস্তার বাতিগুলো রাত জেগে থাকে,
যেনো প্রত্যেকটি আলোর ভেতরে একটি করে অনাথ শোক বসবাস করছে।
আমি দরজায় হাত রাখি।
কাঠের শিরায় শুনি, কারা যেনো বহুদিন ধরে নিজেদের কান্না পুঁতে রেখেছে।
ঘরের দেয়ালগুলো চুনে নয়;
অপেক্ষার পোড়া অস্থিচূর্ণে লেপা।
তোমার ব্যবহৃত কাপটি আজও টেবিলের কোণে বসে আছে।
তার তলায় জমে থাকা শুকনো চায়ের দাগ
আমার চেয়ে বেশি জানে একটি মানুষের চলে যাওয়ার ব্যাকরণ।
জানালার ওপাশে বৃষ্টি নামে না, নামে নক্ষত্রের ছাই।
আকাশ যেনো নিজের নীল শিরা কেটে অন্ধকারকে রক্ত দিচ্ছে।
আমি সেই রক্তে প্রতিদিন তোমার নাম লিখতে গিয়ে নিজেরই আঙুল হারিয়ে ফেলি।
এই পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর।
এখানে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যায়,
কিন্তু ভালোবাসার সময় এক জায়গায় পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
আমি সেই পাথরের পাশে একজন নির্বাসিত ফেরিওয়ালার মতো
বিক্রি করে বেড়াই অসমাপ্ত স্বপ্ন।
কখনও মনে হয়,
আমার বুকের ভেতর যে হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে তা হৃদয় নয়, একটি পরিত্যক্ত রেলস্টেশন।
সেখানে প্রতিদিন অসংখ্য বিদায় এসে কড়া নাড়ে,
কিন্তু কোনো প্রত্যাবর্তনের ট্রেন আর কখনও বাঁশি বাজায় না।
তোমার অনুপস্থিতি,
তবু প্রতিটি ভোরে আমি মৃত্যুর চেয়ে দীর্ঘ একটি নিঃসঙ্গতা কাঁধে নিয়ে জেগে উঠি,
আর সন্ধ্যা নামার আগে নিজেকেই কবর দিই আরও একবার,
বেঁচে থাকার অপরাধে।