মেয়েটির খুব মনে পড়ে...
ছাতনাতলা, লাল বেনারসি,
পান পাতায় ঢাকা দুটি নয়ন,
সেই সিঁদুর..
রাঙিয়ে দেয়া সিঁথি।
বাপের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি পা রাখা।
বধূবরণ,শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি মিষ্টি মুখ..
ফুলশয্যার বিশেষ রাত..
দুই হৃদয়ে এক হওয়া।
হৃদয় জুড়ে যেন সুখের বার্তা।
পরের দিন বিশেষ কাজে অফিস যাওয়া..
এক্সিডেন্টে সব শেষ...
এক মুহূর্তে সব শেষ...
সবাই তাকে ডাকে বিধবা..
এখন তার নতুন নাম
অলক্ষ্মী আর বিধবা।
আর তার শাশুড়ি তাকে ডাকে রাক্ষসী বলে।
ওর নিঃশ্বাসে নাকি বিষ আছে।
মেয়েটি সাদা শাড়ির আঁচলের ভাঁজে..
লুকিয়ে রাখে এক বিচ্ছেদের বেদনা.
সে বসে থাকে স্মৃতি বৃক্ষের ছায়ায়।
সেও বাঁধতে চেয়েছিল সুখ দুঃ
খের -
এক বিনি সুতোর সংসার।
এখন সমাজের অসভ্য নগ্ন চোখগুলো-
পাহারা দেয় তার ঘর।
দিন যায়- মাস যায়....
বছরের পর বছর যায়....
প্রকৃতিতে ফিরে ফিরে আসে বসন্ত।
তার হৃদয়েও বসন্ত আসে ।
প্রকৃতির কোকিল ডাকে তার হৃদয় জুড়ে..
তার হৃদয়ও খোঁজে ভালোবাসা-
খোঁজে একটা- শুধু একটা-
ভালোবাসার মানুষ।