বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬

টাইফুন ‘বাভি’ ঘিরে উত্তর কোরিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা,জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ কিমের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-১৫ ০০:৫৪:৩৫
ছবি: সংগৃহীত।

উত্তর কোরিয়ার দিকে ধেয়ে আসা টাইফুন ‘বাভি’কে ঘিরে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মঙ্গলবার জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল অবকাঠামো ও সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। তাই আগাম প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পিয়ংইয়ং।
রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানিয়েছে, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হবে। স্থলভাগে প্রবেশের আগে এটি শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার হারে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল এবং অভ্যন্তরীণ কিছু অঞ্চলে প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কিম জং উন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
গত সপ্তাহেই কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছিল, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতেও টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েকশ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বন্যার পানিতে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।
সিউলের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চল ও জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে। চলতি বছর এল নিনো পরিস্থিতিও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও সীমিত অবকাঠামোর কারণে উত্তর কোরিয়ার মানুষের জন্য দুর্যোগ মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

উত্তর কোরিয়া, টাইফুন বাভি, কিম জং উন


এ জাতীয় আরো খবর