মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

কুতুবজোমে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ: হাতকড়াসহ পলাতক আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযানে পুলিশ!

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-১২ ১৬:১৪:০৪

মহেশখালী(কক্সবাজার)
মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজারে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা এক পলাতক আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মানবপাচারসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি কাশেম (পিতা: মোহাম্মদ সোলতান ওরফে মাম্মদ)কে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা হাতকড়াপরা আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলায় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শফিউল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক অংশ নেয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি এবং হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 
তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি (যদি থাকে), প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে পুলিশ।
কুতুবজোম বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হায়দার বলেন, "ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুলিশের ওপর হামলা এবং হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলছে।"
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে,থানা পুলেশের পক্ষ থেকে পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে  কোন বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। 
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ প্রক্রিয়ার জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং জনমনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশি অভিযানে বাধা বা আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরী।​


এ জাতীয় আরো খবর