তার হাতে ছিল একখানা বই,
চোখে নীরব ঘূর্ণি
আমি তাকিয়েছিলাম চুপচাপ,
সে তাকায়নি, তবু কোথাও ছুঁয়ে গিয়েছিল আমাকে।
নাম তার নীরা
হয়তো সত্যি, হয়তো না,
সে বলেছিল, ভালোবাসা মানে অপেক্ষা
আমি বলেছিলাম, কেউ কেউ আসে নিঃশব্দেই।
আমরা হাঁটছিলাম শহরের ভেতর,
ধীরে, কোনো তাড়া ছাড়া
এক গলির সামনে এসে সে থামল,
বলল, এখানে কেউ ছিল… এখন নেই।
তার চোখে তখন মৃদু এক ভাঙা আলো,
আমি সেখানে নিজের ছায়া দেখলাম।
রাত নামল নরমভাবে,
ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলে উঠল
আমাদের মতোই একা,
কিন্তু খুব চুপচাপ।
সে জিজ্ঞেস করল, তুমি কবিতা লিখ?
আমি হেসে বললাম না… শুধু হেরে যাই।
সে আস্তে বলল,
হারিয়ে যাওয়া মানেই তো বেঁচে থাকা।
তারপর হঠাৎ বৃষ্টি
নরম, ধীর, স্মৃতির মতো।
এক ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে
আমি অনুভব করলাম তার ভেজা চুলের গন্ধ
অচেনা, অথচ খুব কাছের।
সেই মুহূর্তে কিছু জেগে উঠেছিল
না প্রেম, না কোনো নাম জানা অনুভূতি,
শুধু এক শান্ত অনুভব ,
যেন তাকে আগে থেকেই চিনতাম।
সে বলল, আমি একদিন চলে যাব
আমি বললাম, যারা চলে যায়,
তাদেরই মনে থাকে সবচেয়ে বেশি।
তারপর সে একবার হাত ধরল
খুব আস্তে,
কিন্তু সেই স্পর্শে
সময় একটু থেমে গিয়েছিল।
তারপর সবকিছু আবার স্বাভাবিক
রাস্তা, আলো, ভিড়,
শুধু সে নেই।
কখনো ভাবি
নীরা কি সত্যিই ছিল?
নাকি সে শুধু এক অনুভব,
যা আসে, ছুঁয়ে যায়, থেকে যায়।
তবু এখনো কখনো
বৃষ্টির পর বাতাসে
তার গন্ধ খুঁজে পাই।
আর ভেতরে ভেসে আসে সেই কথা
হারিয়ে যাওয়া মানেই তো বেঁচে থাকা।
আমি তখন শুধু হাঁটি
নরম ভেজা এক শহরের ভেতর,
যেখানে কিছু গল্প
শেষ হয় না,
শুধু আস্তে আস্তে মিলিয়ে যায়।
টরন্টো