বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সিভিল এভিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএএবি)-এর নিরাপত্তা শাখার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নীরবে-নিভৃতে দেশব্যাপী মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। প্রায় ৩০০ সদস্যের এই সংগঠনটি নির্ধারিত কোনো চাঁদা ছাড়াই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির ভিত্তিতে কাজ করছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দিন জানান,অবসর-পরবর্তী সময়ে সহকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা,অসুস্থ সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো, আর্থিক সংকটে সহায়তা, সামাজিক-মানবিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে সদস্যদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে, ফলে যে কোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সংগঠনের বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে কোনো বাধ্যতামূলক চাঁদা নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বেচ্ছা অনুদান ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহমর্মিতাই এই সংগঠনের মূল শক্তি।
অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা মনে করেন, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলাবোধ সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোই তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই সংগঠনটি কেবল সদস্যদের কল্যাণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় ও সামাজিক সংকটকালেও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান,ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সদস্যদের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করা, নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন এবং সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবসর-পরবর্তী জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে সিএএবি নিরাপত্তা শাখার প্রাক্তনদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবিক বন্ধন ও পেশাগত শৃঙ্খলার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠন দেখিয়ে দিচ্ছে-দায়িত্ব শেষ হলেও দায়বদ্ধতা শেষ হয় না।