গাজায় অবশিষ্ট শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার হলেই মিশরের সঙ্গে গাজার একমাত্র সীমান্ত রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। রোববার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে রাফা ক্রসিং খোলার পরিকল্পনা থাকলেও ইসরায়েল শুরু থেকেই একটি শর্ত আরোপ করে। সেই শর্ত অনুযায়ী, জীবিত জিম্মিদের মুক্তির পাশাপাশি নিহত জিম্মিদের মরদেহও ফেরত দিতে হবে। এখন পর্যন্ত সব জিম্মিকে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, কেবল ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলির মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।
নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, রান গভিলির মরদেহ উদ্ধারের লক্ষ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। অভিযান সফল হলে রাফা ক্রসিং সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এটি শুধুমাত্র সাধারণ পথচারীদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া ইসরায়েলের কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে।
রাফা ক্রসিং গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে সংযোগের একমাত্র স্থলপথ। ২০২৪ সাল থেকে ক্রসিংটির গাজার অংশ ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে গাজাবাসীর যাতায়াত ও মানবিক সহায়তা প্রবেশ মারাত্মকভাবে সীমিত ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েল আরও সেনা প্রত্যাহার করবে এবং হামাস গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে দাঁড়াবে। বিশ্লেষকদের মতে, রাফা ক্রসিং খোলার ঘোষণা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে নতুন গতি দিতে পারে, যদিও বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে—তা নির্ভর করছে ময়দানের পরিস্থিতির ওপর।
কীওয়ার্ডস:রাফা ক্রসিং,গাজা যুদ্ধবিরতি,ইসরায়েল জিম্মি