২০২৪ সালের ‘বর্ষা বিপ্লব’-এর পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনকে ঘিরে দেশে নারী, কিশোরী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া যত এগিয়ে আসছে, ততই সহিংসতার মাত্রা বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি মানবাধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
এইচআরডব্লিউ জানায়, পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড এই সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী নারীদের চলাফেরা, মতপ্রকাশ ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে লিঙ্গসমতা ও নারী অধিকার সংস্কার উদ্যোগকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনের পর থেকেই নারীরা মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থাও প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১০টি ছিল হত্যাকাণ্ড।
চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, অতীতে দেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও বর্তমানে তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা ও নিরাপত্তা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলেই কোনো নারী প্রার্থী নেই। বিশেষ করে অন্যতম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো আসনেই নারী প্রার্থী দেয়নি, যা নারী প্রতিনিধিত্বের সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারকে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের ‘সিডও’ সনদসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক সুরক্ষা কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কী-ওয়ার্ডসঃবাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬,নারী নির্যাতন,সংখ্যালঘু সহিংসতা,Human Rights Watch