বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এক সাংবাদিক ও দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, 'মতবিভেদ যেন জাতিকে বিভক্ত করে না ফেলে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।'
তিনি বলেন,'সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলীয় বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেটি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কোনোভাবেই যেন তা জাতীয় বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে। ৫ আগস্টের ঘটনায় আমরা এর ক্ষতিকর ফলাফল দেখেছি।'
গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণঃ
তারেক রহমান আরো বলেন,'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় সরকার,ট্রেড বডি,জাতীয় পর্যায়-সবখানেই নির্বাচন হতে হবে। গণতন্ত্র ও জবাবদিহির চর্চা অব্যাহত থাকলে দেশের সমস্যা সমাধান সম্ভব।'
তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শন ও আশা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। 'প্রতিটি প্রজন্ম guidance চাইছে। আমাদের রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব, অতীতের ইতিহাসকে সামনে রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের জন্য কাজ করা,' তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্কার ও সামাজিক নীতিঃ
তারেক রহমান দেশের সংস্কারের তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন-সাংবিধানিক, আইনগত ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। তিনি বলেন, 'আমরা সংবিধান ও আইন নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। কিন্তু স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আরও ভাবনার প্রয়োজন।'
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর' নীতি অনুসরণ করা হবে। দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০-৮৫ শতাংশ হবে নারী। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন।
নারীর উন্নয়ন ও ফ্যামিলি কার্ডঃ
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, 'দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। প্রতিটি পরিবারের নারীরা রাষ্ট্র থেকে সহায়তা পাবেন। এটি সর্বজনীন হবে।'
কৃষক ও প্রবাসী কল্যাণঃ
কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণে ভর্তুকি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বন্ড সুবিধাও থাকবে।
তরুণ প্রজন্ম ও আইটি খাতঃ
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আইটি পার্কগুলোতে ছোট অফিস স্পেস, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের টাকা দেশে আনতে সহায়তা দেওয়া হবে।
আগামী পরিকল্পনাঃ
তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী '২২ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জনগণের সামনে তাদের সব পরিকল্পনা তুলে ধরবে।' তিনি বলেন, 'রাজনীতি শুধুমাত্র সেমিনার বা তর্কবিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মানুষের প্রাত্যহিক চাওয়া-পাওয়াগুলো নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি হবে।'
উপস্থিতিঃ
মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
কী-ওয়ার্ডস:তরেক রহমান, বিএনপি পরিকল্পনা, রাজনৈতিক মতবিনিময়