পরিবেশবান্ধব এই ঘাসের সম্ভাব্য ব্যবহার নির্ধারণে তৈরি হবে জাতীয় নির্দেশিকা
সড়ক ও বাঁধের মাটি ক্ষয় এবং ভাঙন ঠেকাতে পরিবেশবান্ধব বিন্না ঘাস ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এই ঘাসের কার্যকারিতা যাচাই করে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সড়ক ও বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে বিন্না ঘাস ব্যবহারের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এই ঘাসের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে ইতিবাচক মত দেন বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা।
তবে কোন ধরনের সড়ক, বাঁধ কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পে বিন্না ঘাস সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণে আরও কারিগরি বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে প্রধান করে একটি কারিগরি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটিতে প্রস্তাবক ড. মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকেও রাখা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিন্না ঘাস ব্যবহারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকাও তৈরি করা হবে। এতে প্রকল্প নির্বাচন, ঘাস রোপণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভাঙন প্রতিরোধে এর ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কারিগরি দিকনির্দেশনা থাকবে।
মাটির ক্ষয় ঠেকাতে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা
বিন্না ঘাস, যা ভেটিভার ঘাস নামেও পরিচিত, মাটির ক্ষয়রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ঘাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ ও শক্তিশালী শিকড়। শিকড় দ্রুত মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে ধরে রাখে। ফলে বৃষ্টির পানি, ঢলের প্রবাহ কিংবা পানির স্রোতে মাটি সহজে ধুয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
বিশেষ করে নদী, খাল কিংবা জলাশয়ের পাড়, বাঁধের ঢাল এবং সড়কের পাশের মাটি ক্ষয়ের ক্ষেত্রে এই ঘাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিন্না ঘাসের আরেকটি সুবিধা হলো প্রতিকূল আবহাওয়াতেও এর টিকে থাকার ক্ষমতা। তীব্র গরম কিংবা প্রচণ্ড ঠান্ডার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও ঘাসটি সহজে নষ্ট হয় না। এমনকি লবণাক্ত পানিতেও এটি বেঁচে থাকতে পারে। ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা এবং বন্যাকবলিত অঞ্চলে এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অবকাঠামো সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা
প্রতিবছর বন্যা, অতিবৃষ্টি ও নদীর স্রোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামো রক্ষায় প্রচলিত প্রকৌশল ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর সমাধান কাজে লাগানো গেলে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপও কমানো সম্ভব হতে পারে।
সরকারের সাম্প্রতিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিন্না ঘাসকে দেশের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কারিগরি কমিটির সুপারিশ এবং প্রস্তাবিত নির্দেশিকা প্রণয়নের পর কোন কোন প্রকল্পে এটি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিন্না ঘাস বাঁধ রক্ষা সড়ক সুরক্ষা