মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

মহাসড়কে অননুমোদিত থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে কঠোর অবস্থান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৮-১৮ ১৬:১৩:১১
ছবি: সংগৃহীত।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অননুমোদিত ও লাইসেন্সবিহীন থ্রি-হুইলার এবং অযান্ত্রিক যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যবস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সবিহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা অযান্ত্রিক যান চলতে দেওয়া হবে না। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। তবে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় পাশের সংযোগ সড়ক ব্যবহার এবং সিএনজি জ্বালানি নেওয়ার মতো বিষয়গুলো যাতে শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তির ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু করা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক সংকেত অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধভাবে গাড়ি রাখার মতো অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সংরক্ষণ করা যাবে।
আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের তথ্য সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যভান্ডারে পাঠানো হবে। পরে নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে মামলার তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। জরিমানার অর্থও বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ঘরে বসে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
একই যানবাহন বারবার ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে যানবাহনের নিবন্ধন বাতিলের মতো প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
মহাসড়কে অবৈধ চাঁদাবাজির বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের কোনো সদস্য—যে পক্ষ থেকেই চাঁদাবাজি করা হোক না কেন, ক্যামেরায় তার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে মহাসড়ককে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকরভাবে চালু হলে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, উল্টো পথে চলাচল ও অন্যান্য অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি চালক, মালিক, শ্রমিক ও পথচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিয়মিত আইন প্রয়োগই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।

মহাসড়ক, থ্রি-হুইলার, এআই ক্যামেরা


এ জাতীয় আরো খবর