জনপ্রিয় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেফতারের নিন্দা ও মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আজ এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, দেশ আজ মবের রাজত্বে আবদ্ধ। বিবেক-প্রতিবিধির বদলে উন্মত্ততার চাহিদাই যেন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার সেই উন্মত্ততার সামনে ক্রমাগত মাথা নত করছে-ক্ষমতার সমস্ত কাঠামো যেন আত্মসমর্পণ করে দিয়েছে এক অদৃশ্য অনুভূতির ভয়াল চাপে।
পালাগানে ইসলাম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দেশের খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় বাউল শিল্পী আবুল সরকার ওরফে ছোট আবুলকে আকস্মিক ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা শুধু একজন শিল্পীর স্বাধীনতাকে বন্দী করা নয়—এটি বাংলাদেশের পালাগান-বাউল ধারার দীর্ঘ ইতিহাসে এক দুঃসহ আঘাত, মানবিক ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে অসম্মানের এক নগ্ন প্রদর্শনী।
যারা পালাগান শোনেন, যারা কোরআন-হাদিস, শরিয়ত-মারিফত, গুরু-শিষ্য পরম্পরা ও যুক্তি-তর্কের সাধনা সম্পর্কে সামান্য ধারনাও রাখেন, তারা জানেন-পালা গানের যুক্তি-প্রতিপাদন ও ধর্ম অবমাননা দুই ভিন্ন ক্ষেত্র, দুই ভিন্ন প্রতিপাদ্য।
শিল্পের প্রতীকী ভাষা অনুধাবনের ক্ষমতা সবার থাকে না। রূপক, ইঙ্গিত, প্রতীকের জগৎ যারা বুঝে না-তারা শব্দের ভেতরের আত্মা ধরতে পারে না; পারে না শিল্পীর বয়ান আর বিদ্বেষের ফারাক চিনতে। তারাই নিজেদের অজ্ঞতা ঢাকতে গিয়ে আঘাত করেছে শিল্পের হৃদয়ে, আঘাত করেছে সংস্কৃতির শেকড়ে।
বাউল আবুল সরকার যে কেবল এক কণ্ঠশিল্পী নন-তিনি একজন সাধক। তাঁর কণ্ঠে বাউল দর্শন শুধু বিনোদন নয়; তা মুক্তির ভাষা, মানবতার আধ্যাত্মিক স্বর। এমন এক মানুষকে ধর্ম অবমাননার আসামি বানানো ভয়ানক অন্যায়-এটি অন্ধকারের জয়োৎসব।
এই গ্রেপ্তার অন্যায়, অমানবিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত। আমরা অবিলম্বে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।