মানুষের আসল মূল্য কেবল মৃত্যুর পরই নির্ধারিত হয়।
জীবিত অবস্থায় আমরা হয় সমালোচনার পাত্র,নয় ভুল বোঝাবুঝির শিকার। আমাদের হাসি হয় ‘অভিনয়’, নীরবতা হয় ‘অহংকার’, নির্জনতা হয় ‘অসামাজিকতা’। অথচ মৃত্যুর পরই হঠাৎ সবাই আবিষ্কার করে-আমরা নাকি “ভালো মানুষ” ছিলাম।
বেঁচে থাকতে কেউ বলে না, “তুই মানুষটা ভালো ছিলি।” কিন্তু চলে গেলে হঠাৎই ফুলে ঢেকে যায় কবর, ভেসে আসে হাজারো স্তুতি।জীবনটা যতটা না বোঝার, তার চেয়ে অনেক বেশি ভুল বোঝাবুঝির মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন—
“মৃত্যু যদি না থাকত, তবে জীবনকে এত ভালোবাসতাম না।”
সত্যিই, মৃত্যু মানুষকে পরিশুদ্ধ করে দেয়, আর জীবিত মানুষকে করে তোলে অপরাধী-নিজের জীবন নিয়েই।
আমরা এমন এক সমাজে বাঁচি, যেখানে মৃত্যুই একমাত্র প্রমাণ যে মানুষটা আসলে ভালো ছিল।
তবু প্রশ্ন থাকে—আমাদের ভালোবাসা, প্রশংসা, শ্রদ্ধা কি সত্যিই মৃত্যুর পরেই ফুটে উঠবে? নাকি জীবিত মানুষটার মুখেও একটু বলব-তুই থাকিস, তাই পৃথিবীটা এখনো সুন্দর।