মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন আগামী ২৮ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। গত ১৮ আগস্ট সোমবার দেওয়া এ ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে পার্লামেন্টে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী ধাপগুলোর তারিখ পরে জানানো হবে।
তবে নির্বাচনের এই তারিখ এমন সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন দেশজুড়ে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণ সীমিত, আর সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে এ নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত এনএলডি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা। তারপর থেকে সেনাদের সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বিদ্রোহীরা জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় তারা কোনো নির্বাচন হতে দেবে না।
মিয়ানমারে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। তখন আউং সান সু চি নেতৃত্বাধীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু কয়েক মাস পর সেনারা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয় এবং সু চির সরকারকে উৎখাত করে। এর পর থেকে বিরোধী দল, জাতিগত গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে সেনাশাসকরা।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে বিদ্রোহী জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামে অভিযান শুরু করে। এতে দেশটির বড় অংশ জান্তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। বিদ্রোহীদের পেছনে চীনের গোপন মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জান্তা সরকারের প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইং গত সোমবার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বিদ্রোহীদের চাপ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে জান্তার কৌশলগত পিছু হটার অংশ। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে মোট ৫৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নিতে নিবন্ধিত হয়েছে।
কীওয়ার্ডস:
মিয়ানমার নির্বাচন ২০২৫, সামরিক জান্তা, আউং সান সু চি, থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স, মিন আং হ্লাইং, গৃহযুদ্ধ, মিয়ানমার রাজনীতি