বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

জ্বালানি সংকটে কঠোর সিদ্ধান্ত,দৈনিক ৩১০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়ের লক্ষ্য

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৪-০৩ ২০:১৯:২৩

বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও একই সময়সূচিতে পরিচালিত হবে, তবে ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। জরুরি সেবা ছাড়া সব অফিস, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
সরকার শিল্প ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে সেচ কার্যক্রম, সার উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জ্বালানির সরবরাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি গাড়ির জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাবেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বৈদেশিক প্রশিক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি ব্যয় সংকোচনে সভা-সেমিনার, ভ্রমণ, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন ধাপে ধাপে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপকে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কী-ওয়ার্ডস: জ্বালানি সংকট,বিদ্যুৎ সাশ্রয়,সরকারি সিদ্ধান্ত


এ জাতীয় আরো খবর