আবদার আর আস্কারার সমানুপাতিক মিশ্রণে
একরোখা শৈশব প্রজন্মের সামনে
প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায় !
রৌদ্র দগ্ধ ছায়াহীন নিঃস্ব সূর্য সকাল,
আস্কারা একটি বটবৃক্ষ খোঁজে।
ছোট্ট দ্বীপের মতো শিশু আবদার
মেঘের বাড়ি থেকে, চাঁদ ধরে আনার
আবদার করতো,
আস্কারা শিশু আবদারের ছোট্ট কপালে
চুমু দিয়ে চাঁদের টিপ পরিয়ে দিতো।
আব্দারী মন ছিলো, পলি মাটির মতো
নরম, নাব্য
মন বাগিচায় তারা ফুটতো, চাঁদের ছায়া পড়তো। ভেসে যেত চরাচর,
মিঠে রোদের মতো সোনালী শৈশব
স্বপ্নের ডানায় উড়ে যেতো
নীলকন্ঠ পাখির মতো।
ঘাসফুল, মেঘের বাড়ি, হাফ প্যাডেল, স্কিপিং রোপ
আর জমানো ডাক টিকিটের ঐশ্বর্যে
শৈশব ছিল আন্তর্জাতিক।
আবদার বড় হচ্ছিলো,
শান্ত দ্বীপের অনুরোধ উপেক্ষা করে
সামুদ্রিক উচ্ছ্বাস বুকের মধ্যে বহন করে সে এখন।
বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়া আস্কারা
প্রবোধ দেয় নিজেকে,
ক্ষতি কি ?
একবার যদি সাহস করে বলতো !
আমি দাতা , তুমি গ্রহীতা,
আমি তোমায় ছায়া দিয়েছি
আমার ভঙ্গুর ডালপালায়, একটিও সবুজ পত্র
অবশিষ্ট নেই।
এবার তোমার ঋণ চোকাবার পালা,
তোমার ছায়ায় একটু জিরোতে চাই।
ক্রুদ্ধ আবদারের প্রলম্বিত দীর্ঘ ছায়া ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলে আস্কারাকে।
তার কাঁচ স্বচ্ছ চোখ বায়না আর লোভের চকচকে শানিত ছুরি,
ফালা ফালা করে দেয়, আস্কারার নীরব প্রতিবাদ।
অতঃপর ভেঙে পড়ে বালিঘর।
আস্কারার চোখে ক্লান্তি জমে,
জমে হতাশা।
নীরব ভাষায় বলে,
আমি তো দিয়েছি সব, তুমি সীমানা মানোনি !
আমাদের গল্পে সীমা ছিল না,
ছিল না শৃঙ্খলা,
তাই বেপথের নিশানায় হারিয়ে গেলে !