মুহাররমের আকাশ আজও নীরবে বলে যায়,
সত্যের পথে চলা মানুষ কখনো হারিয়ে যায় না।
সময় বদলায়, রাজত্ব বদলায়, ক্ষমতার মুখ বদলায়,
কিন্তু সত্যের আলো নিভে যায় না কোনোদিন।
আশুরা শুধু একটি তারিখ নয়,
এ এক আত্মসমালোচনার আয়না-
যেখানে বিবেক প্রশ্ন করে,
আমি কি সত্যের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি?
কারবালার উত্তপ্ত বালুকায়
ইমাম হুসাইন ইবনে আলী শিখিয়েছেন-
জীবন বড় নয়, আদর্শই বড়;
মাথা নত করার চেয়ে মাথা কাটা যাওয়া শ্রেয়, যদি তা হয় সত্যের জন্য।
ক্ষমতার তলোয়ার ক্ষণিকের,
কিন্তু ন্যায়ের উচ্চারণ অনন্তকালের।
রক্ত মাটিতে ঝরে যায়,
কিন্তু তার শিক্ষা ইতিহাসের বুকে অম্লান হয়ে থাকে।
আশুরা আরও স্মরণ করিয়ে দেয়-
আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কখনো পরিত্যাগ করেন না।
যেমন তিনি মুসা (আ.)-কে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন,
তেমনি সত্যের পথও শেষ পর্যন্ত তাঁরই সাহায্যে উন্মুক্ত হয়।
আজ যদি আমরা শোকের অশ্রু ঝরাই,
তবে সেই অশ্রু হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অঙ্গীকারের।
আজ যদি দোয়ায় হাত তুলি,
তবে সে দোয়া হোক অন্তরকে সত্য, ন্যায় ও তাকওয়ায় পূর্ণ করার।
আশুরা শেখায়-
ইসলাম কেবল উচ্চারিত কিছু শব্দ নয়,
এটি ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান,
এটি আমানত রক্ষা, মানবিকতা, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অবিচল ভরসার নাম।
হে পরম করুণাময়,
আমাদের এমন ঈমান দান করুন,
যাতে সত্যের পথে চলতে ভয় না পাই,
আর এমন হৃদয় দিন,
যা কারবালার শিক্ষা থেকে চরিত্র গড়ে তোলে-
ঘৃণা নয়, ন্যায়;
প্রতিশোধ নয়, তাকওয়া;
অহংকার নয়, আল্লাহভীতি।