গাছ কি একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে?
আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে আমি একটি অদ্ভুত জিনিস দেখলাম।
একটি বড় আমগাছের নিচে কয়েকটি ছোট ছোট চারা গাছ জন্মেছে।
আমি ভাবলাম,
-এত বড় গাছের নিচে ওরা কীভাবে বেঁচে আছে?
বাড়ি ফিরে বটদাদুকে জিজ্ঞেস করলাম,
-গাছ কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে?
বটদাদু মৃদু হেসে বললেন,
-মানুষের মতো হাত মেলাতে না পারলেও,গাছেরও বন্ধুত্ব আছে।
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম,
-সত্যি?
-হ্যাঁ। মাটির নিচে তাদের শিকড় আর ছত্রাকের সূক্ষ্ম জালের মাধ্যমে অনেক সময় গাছ একে অপরের সঙ্গে পানি,পুষ্টি ও নানা সংকেত আদান-প্রদান করে।
আমি আরও অবাক হলাম।
-তাহলে একটি গাছ বিপদে পড়লে অন্য গাছও জানতে পারে?
বটদাদু বললেন,
-অনেক গবেষণায় দেখা গেছে,কিছু গাছ পোকামাকড়ের আক্রমণ বা অন্য বিপদের সংকেত আশপাশের গাছে পৌঁছে দিতে পারে। তখন অন্য গাছগুলোও নিজেদের রক্ষার প্রস্তুতি নেয়।
ঠিক তখন রাহি বলল,
-তাই তো! প্রকৃতিতে কেউ একা নয়।
বটদাদু মাথা নেড়ে বললেন,
-এটাই প্রকৃতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা। একসঙ্গে থাকলে শক্তি বাড়ে।
আমি বাড়ির উঠোনের গাছগুলোর দিকে তাকালাম।
মনে হলো,তারা সবাই নীরবে একে অপরের খোঁজ রাখছে।
অরণের ছোট্ট বিজ্ঞান তথ্যঃ
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন,অনেক গাছ 'শিকড় ও মাটির নিচের ছত্রাকের জালের' মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পুষ্টি ও রাসায়নিক সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে। তবে সব গাছ একইভাবে বা সব পরিস্থিতিতে এমনটি করে না। প্রকৃতিতে এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া,যা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।
আজকের পরিবেশ ভাবনাঃ
মানুষ যেমন একে অপরকে সাহায্য করলে সমাজ সুন্দর হয়,তেমনি প্রকৃতিতেও সহযোগিতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আজকের প্রশ্নঃ
তুমি যদি একটি গাছ হতে,কোন গাছ হতে চাইতে?
-বট
-আম
-নারিকেল
-কদম
-নাকি অন্য কোনো গাছ?
মন্তব্যে লিখে জানাও।
-অরণ