দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেনেগাল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই বড় জয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার কৃতিত্বও গড়েছে সেনেগাল। তবে ‘আই’ গ্রুপ থেকে সরাসরি শেষ ৩২-এ উঠেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ইরাক।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সেনেগাল। কর্নার থেকে আবদুলায়ে সেকের হেডে হাবিব দিয়ারা বল জালে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় গোল।
১৩ মিনিটেই ইরাকের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সাদিও মানেকে নিশ্চিত গোলের সুযোগে ফাউল করায় ভিডিও সহায়তা প্রযুক্তির পর্যবেক্ষণের পর ডিফেন্ডার রেবিন সুলাকাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি অ্যান্থনি টেলর। এবারের বিশ্বকাপে এটি নবম লাল কার্ড এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম লাল কার্ডের ঘটনা।
একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেললেও প্রথমার্ধে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েনি ইরাক। তবে বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় সেনেগাল।
প্রথমার্ধে চোট পাওয়া গোলরক্ষক আহমেদ বাসিলের পরিবর্তে দ্বিতীয়ার্ধে জালাল হাসান মাঠে নামলেও সেনেগালের ধারাবাহিক আক্রমণ সামাল দিতে পারেননি।
৫৬ মিনিটে জিদান ইকবালের ভুল পাস থেকে বলের দখল নিয়ে ইসমাইলা সার সহজেই টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোল করেন। এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ৮৯ সেকেন্ডের মধ্যে অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করেন পাপে গুয়ে। ৭১ মিনিটে আরও একটি দুর্দান্ত ভলিতে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে ইলিমান এনদিয়ায়ে পঞ্চম গোলটি করলে সেনেগালের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচজুড়ে সেনেগালের আক্রমণের সামনে অসহায় দেখা যায় ইরাককে। একের পর এক গোল হজম করতে থাকা দলটির কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডকে ডাগআউটে হতাশাভরা মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এখন শেষ ৩২-এ ওঠার জন্য অন্য গ্রুপের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকবে সেনেগাল। তবে বড় ব্যবধানে এই জয় তাদের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে।
সেনেগাল, ইরাক, বিশ্বকাপ