বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দে এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে ইকুয়েডর সরকার। জাতীয় দলের নকআউট পর্বে ওঠার সাফল্য উদ্যাপনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। এই জয়ের পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে অভিনন্দন জানিয়ে শুক্রবার সারা দেশে সরকারি ছুটির ঘোষণা দেন। পরে নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়।
প্রেসিডেন্ট নোবোয়া তাঁর বার্তায় বলেন, নানা সমালোচনা, অপমান ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে দল যেভাবে পুরো জাতিকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে, তার জন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
সরকার জানিয়েছে, ঘোষিত ছুটি সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই কার্যকর হবে এবং এ দিনের কর্মঘণ্টা পরে পূরণ করতে হবে না। তবে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ, বিমানবন্দরসহ জরুরি সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা ইকুয়েডরের জন্য ছিল হতাশাজনক। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি। তবে নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গনসালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
এই জয়ের সুবাদে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠায় দেশজুড়ে শুরু হয় উৎসব।
ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এই জয়কে ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, টুর্নামেন্টের শুরুতে হতাশাজনক অবস্থায় থাকলেও খেলোয়াড়রা নিজেদের বিশ্বাস হারায়নি। সেই আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত দলকে ইতিহাস গড়তে সহায়তা করেছে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর ফুটবলপ্রেমী ইকুয়েডরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় দলের সাফল্য উদ্যাপনে এক দিনের জন্য যেন থেমে যায় কর্মব্যস্ত জীবন, আর আনন্দে মেতে ওঠে পুরো দেশ।
ইকুয়েডর, জাতীয় ছুটি, বিশ্বকাপ