সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

শহীদ আবু সাঈদের ভাইয়ের আহ্বান: “নির্বাচনের আগে বিচার চাই,তাহলেই ফিরবে ভোটাধিকার”

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১৯ ১৫:২৩:৫৩
ছবি সংগৃহিত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে উপস্থিত হয়ে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, “আমরা আজও শহীদদের বিচার পাইনি। যদি ন্যায়ের বিচারের আশ্বাস না পাই, তাহলে ভোটাধিকারও ফিরবে না। বিচার করতে হবে এই সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই।”
শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এই জাতীয় সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে যদি শহীদদের জন্য সঠিক বিচার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্রে আস্থা ফিরে পাবে। যারা জীবন দিয়েছে, তারা কোনো দলের সদস্য নয়-তারা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য শহীদ হয়েছে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এই সমাবেশ শুরু হয় দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান, যিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। তখন দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান।
জামায়াত দাবি করেছে, এটি তাদের ইতিহাসের “স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাগম”, যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছে।
এই সমাবেশে দলটির পক্ষ থেকে সাত দফা জাতীয় দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার
প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি (PR System) চালু
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মঞ্চে ছিলেন বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্য, যাদের অনেকেই বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সমাবেশ সফল করতে জামায়াত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, প্রস্তুতি সভা ও প্রচার চালিয়েছে। জানা গেছে, এই সমাবেশে জনস্রোত বাড়াতে প্রায় ১০ হাজার বাস ও কয়েক জোড়া ট্রেন রিজার্ভ করা হয়। দক্ষিণাঞ্চল থেকে লঞ্চেও হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় আসেন।
এই বিপুল উপস্থিতি রাজধানীর যান চলাচলেও প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শাহবাগ, বাংলামোটর, নিউমার্কেট ও রমনা এলাকায় ট্রাফিক ধীর হয়ে পড়ে।
শহীদ আবু সাঈদের ভাই রমজান আলীর বক্তব্যে জনগণের এক আস্থাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। “যতদিন শহীদদের বিচার হবে না, ততদিন নির্বাচনে আস্থা ফিরবে না,”-এই মন্তব্য শুধু আবেগ নয়, বরং গণতন্ত্রপন্থী নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এক গভীর হতাশার প্রতিচ্ছবি।
অনেকে বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য যদি রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে জায়গা পায়, তাহলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিই হয়ে উঠবে প্রধান ইস্যু।

কিওয়ার্ডস:জুলাই অভ্যুত্থান, শহীদ আবু সাঈদ, জাতীয় সমাবেশ ২০২৫, জামায়াত আন্দোলন, সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি


এ জাতীয় আরো খবর