সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে কলেজছাত্র হৃদয় হত্যা: ৮ দিনের মাথায় রহস্য উন্মোচন,গ্রেপ্তার দুই ‘আস্থাভাজন বন্ধু’

  • মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৭-১৪ ১৮:২৮:১৬
ছবি সংগৃহিত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন (১৯) হত্যার জট খুলেছে ঘটনার মাত্র আট দিনের মাথায়। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল হৃদয়েরই দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাদের একজন বাদাম বিক্রেতা, অপরজন টমটম চালক। পুলিশ বলছে, তারা ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হৃদয়কে হত্যা করে গামছা পেঁচিয়ে।
সোমবার (১৪ জুলাই) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাজল মিয়া (২০) ও সিরাজুল ইসলাম (২১) নামে দুজনকে। কাজল কিশোরগঞ্জ জেলার কালিয়ারচরের দাড়িয়াকান্দি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে এবং সিরাজুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তারা উভয়েই শ্রীমঙ্গল শহরতলীর শাহীবাগ এলাকায় বসবাস করছিল।
কাজল পেশায় টমটম চালক এবং সিরাজুল একজন বাদাম বিক্রেতা। আর নিহত হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্র ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও শ্রীমঙ্গলের শাহীবাগ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে হৃদয় ছিলেন অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। তিনি বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার করে প্রায় ২২ হাজার টাকা জুয়ায় খরচ করেন, যা তিনি আর ফেরত দেননি। এমনকি কাজল ও সিরাজুল মোবাইল বিক্রি করে তার হাতে টাকা তুলে দেন।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হৃদয় ওই দুই বন্ধুকে ঢাকায় নিয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি না দিয়ে হঠাৎ করেই তিনি শ্রীমঙ্গলে ফিরে আসেন। এতে বন্ধুরা প্রতারিত ও অপমানিত বোধ করে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল ‘সফিস্টিকেটেড’ ও ঠান্ডা মাথার। ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তারা হৃদয়কে একা করে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। তারা এতটাই সচেতনভাবে পরিকল্পনা করেছিল যে কোনো ধরনের ক্লু বা প্রমাণ রেখে যায়নি।
তবে পুলিশ হাল ছাড়েনি। প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং পুরোনো ধাঁচের ম্যানুয়াল তদন্তের মাধ্যমে ক্রমে উদ্ঘাটিত হয় রহস্য।
গত ৭ জুলাই কাকিয়াছড়া চা-বাগানের একটি গাছে বাঁধা অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর ধরন দেখে প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল এটি পরিকল্পিত হত্যা। ওইদিন থেকেই পুলিশ তদন্তে নামে।
পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। হত্যাকারীরা প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন ছিল। তবুও আমরা সিসিটিভি, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সফল হয়েছি।”
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, আস্থা আর বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে কতটা ভয়ানক প্রতারণা ও হিংস্রতা লুকিয়ে থাকতে পারে। হৃদয়ের পরিবারের দাবি, যেন অপরাধীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।

কিওয়ার্ডস: শ্রীমঙ্গল কলেজছাত্র হত্যা, হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন, বন্ধু দ্বারা হত্যা, মৌলভীবাজার হত্যা, শ্রীমঙ্গল নিউজ, হৃদয় হত্যার কারণ, অনলাইন জুয়া, বাংলাদেশে তরুণ অপরাধ, বন্ধুত্বে বিশ্বাসঘাতকতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবক নিহত


এ জাতীয় আরো খবর