রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

ইসলামে সদকা বা দান-সদকার ফজিলত অপরিসীম

  • হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
  • ২০২৬-১০-০৪ ১৯:৪৫:৫৪

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, ইসলামে সদকা বা দান-সদকার ফজিলত অপরিসীম, এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) দানকারীদের দুনিয়া ও আখিরাতে বহুগুণ প্রতিদান দেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন:
যে ব্যক্তি একটি সৎকাজ করবে,সে তার দশ গুণ প্রতিদান পাবে। (সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৬০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা দানের সওয়াব ৭০০ গুণ বা তার চেয়েও বেশি বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬১)।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, সদকা করলে মানুষের সম্পদ কমে না, বরং দুনিয়াতে বরকত বৃদ্ধি পায়, বিপদ-আপদ দূর হয় এবং আখিরাতেও এর জন্য রয়েছে বিশাল পুরস্কার।
ইসলামে দান-সদকার ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে সদকা করার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং দুনিয়াবি জীবনেও মানুষের ওপর থেকে নানা ধরনের বিপদ-আপদ দূর করে এবং সম্পদে বরকত আনে।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সদকার প্রধান ফজিলতগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্রোধ প্রশমন
সদকা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গোপন সদকা আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে।
২. গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি
পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়, সদকা তেমনি মানুষের গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। এমনকি সামান্য খেজুরের টুকরো দান করার মাধ্যমেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাদিসে।
৩. সম্পদে বরকত বৃদ্ধি
অনেকে মনে করেন দান করলে সম্পদ কমে যায়, কিন্তু আসলে সদকা করলে সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা দাতার সম্পদে বরকত দান করেন এবং বহুগুণে তা বাড়িয়ে দেন।
৪. বিপদ-আপদ ও রোগ-ব্যাধি দূরীকরণ
সদকা মানুষের জীবনে আসা বিভিন্ন মুসিবত, দুর্ঘটনা এবং কঠিন রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা সদকার মাধ্যমে তোমাদের অসুস্থদের চিকিৎসা করো।"
৫. কেয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া
কেয়ামতের সেই কঠিন ও ভয়াবহ দিনে, যখন কোনো ছায়া থাকবে না, তখন দানশীল ব্যক্তিরা তাদের দেওয়া সদকার ছায়ার নিচে অবস্থান করবেন।
৬. সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব
এমন কিছু দান আছে যার সওয়াব মানুষ মৃত্যুর পরও পেতে থাকে, একে বলা হয় সদকায়ে জারিয়া। যেমন: মসজিদ নির্মাণ, দ্বীনি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, নলকূপ স্থাপন বা জনকল্যাণমূলক কোনো কাজ।
সবসময়ই সাধারণ মানুষকে তাদের উপার্জিত হালাল মাল থেকে বেশি বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করার এবং গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন, যা একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট ।


এ জাতীয় আরো খবর