ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় তাকে থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়নের কথা জানানো হয়। একই আদেশে আদালত ডিউটিতে থাকা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিমকে সদর দক্ষিণ থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে হঠাৎ করেই মহাসড়কে একটি মিছিল করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে মিছিলের কারণে মুহূর্তেই যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নেয়।
নাগরিকদের প্রশ্ন ছিল-এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কীভাবে এমন ঝটিকা কর্মসূচি হতে পারে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন কী করছিল?
ওসি রফিকুল ইসলামের বদলির সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বদলিকে ‘সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল’ বলেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, “ওসি বদলির সঙ্গে ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি আমাদের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ।”
তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞমহলের মতে, মিছিল-পরবর্তী দ্রুত এই পদক্ষেপ কাকতালীয় হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গাফিলতি আড়াল করতে চেষ্টার একটি দিক হতে পারে।
শুধু থানা পুলিশ নয়, সমালোচনার মুখে পড়েছে মহাসড়কে দায়িত্বে থাকা মিয়ার বাজার হাইওয়ে থানা পুলিশও। মিছিল চলাকালীন তারা কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাতিলকৃত দলের ছাত্র সংগঠনের হঠাৎ কর্মসূচির ফলে যখন যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকে-তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। ওসি বদলির ঘটনা প্রশাসনিক হলেও এর সময় ও প্রেক্ষাপট একে বিতর্কিত করে তুলেছে।
বিশেষ করে যখন থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ-উভয়েরই ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে, তখন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের রদবদলকে সম্পূর্ণ ‘নিয়মিত প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখানো অনেকের কাছেই যথেষ্ট নয়।
নতুন ওসি মোহাম্মদ সেলিম কীভাবে এই বিতর্কিত পরিস্থিতি সামাল দেন এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা ও নিয়মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে মহাসড়ক দখলের প্রবণতা রোধে প্রশাসনের দৃশ্যমান ভূমিকাও এখন সময়ের দাবি।
কীওয়ার্ডস:
কুমিল্লা ওসি বদলি, ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তফাপুর ছাত্রলীগ, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ, থানা ওসি রদবদল, পুলিশ প্রশাসন কাকতালীয় বদলি, মহাসড়কে রাজনৈতিক মিছিল