শনিবার, মে ২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকরের আগে ত্বরিত চুক্তি চায় বাংলাদেশ,আলোচনা চলছেই

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-০৪ ১৩:১২:০৮

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন শুল্কনীতি আগামী ৯ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে জোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টা), ওয়াশিংটনের ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR) কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দূতাবাস কর্মকর্তারা। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়া বৈঠকটি ছিল দ্বিপাক্ষিক শুল্ক আলোচনার তৃতীয় রাউন্ড। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একাধিক বিষয়ে গভীর মতানৈক্য থাকায় চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে আলোচনা চলমান থাকবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, আগামী ৮ জুলাই আবারও বৈঠকে বসবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং ইউএসটিআর। এ লক্ষ্যে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি শুল্ক সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রস্তাব দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
যদি যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো দেশের ওপর শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে বাংলাদেশকেও তাতে সমর্থন জানাতে হবে।
যেসব মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশ শুল্ক ছাড় দেবে, সেসব পণ্যে অন্য কোনো দেশকে সেই সুবিধা দেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ মনে করছে, এসব শর্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির পরিপন্থী এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ‘সর্বাধিক অনুকূল রাষ্টনীতি (Most Favoured Nation)’ বিরোধী। ফলে ঢাকা এখন পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত একটি সমঝোতা খুঁজছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ এরই মধ্যে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া নিয়ে তিন দফা মতামত পাঠিয়েছে এবং মোট তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন শর্তের মুখে শুধু বাংলাদেশই নয়, অন্যান্য দেশও পিছিয়ে যাচ্ছে। যেমন, প্রাথমিকভাবে সম্মত হলেও ইন্দোনেশিয়া চুক্তি স্বাক্ষর থেকে সরে এসেছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ভিয়েতনামের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামের পণ্যে ২০% শুল্ক আরোপ করবে, অথচ ভিয়েতনাম মার্কিন পণ্যে কোনো শুল্ক আরোপ করবে না।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল ২০২৫ ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭% পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক ধার্য করা হয়। তবে ৯ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তিন মাসের জন্য তা স্থগিত করেন, যা শেষ হচ্ছে ৮ জুলাই।
বাংলাদেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, ৯ জুলাইয়ের আগে কোনো সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে দেশের তৈরি পোশাকসহ বেশ কিছু পণ্যে রপ্তানি খরচ বেড়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর