শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ২৫ হাজার টাকা করতে হবে: শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

  • ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিম
  • ২০২৬-০৫-০১ ২০:২৮:১২

মহান মে দিবস উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে পুরাতন পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বর্ণাঢ্য শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, “দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে-এটি কেবল স্লোগান নয়, বাস্তব সত্য।”
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে  একটি শ্রমিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। তিনি বলেন, “মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন—‘কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না’। সেই বৈষম্যবিরোধী চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি। আজও বহু মানুষ স্টেশন, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারের নিচে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
তিনি আরও বলেন, বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতায় জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
মহাসচিব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনা করলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বক্তারা বলেন, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সূচনা ঘটে হে মার্কেট আন্দোলন থেকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার আন্দোলন শক্তিশালী হয়। বক্তারা বলেন, সেই ঐতিহাসিক চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক—ন্যায্য মজুরি ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাবুল বিশ্বাস, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও আহ্বায়ক, ভাসানী শ্রমিক পার্টি। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন প্রফেসর হারুনুর রশিদ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বিলকিস খন্দকার, মোশাররফ হোসেন, মুনির হোসেন সরকার, নারী নেত্রী শাহানা, কেন্দ্রীয় নেতা ইমরুল হাসান ওয়াসিম এবং আসিমসহ আরও অনেকে।
বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
 

 


এ জাতীয় আরো খবর