তোমার কবিতাগুলো যেন ভ্রাম্যমান চলন্তিকা !
কোনো বহতা নদীর বেলা ভূমিতে এসে দাঁড়ায় না,
অসীম আকাশের নীলের দোটানায় ওরা ডুবতে জানে না।
তোমার শব্দেরা নৈপুণ্যের উচ্ছিষ্ট নৈবেদ্য হয়ে
কথার মালা গাঁথে।
সে মালা, অসমাপ্ত কবিতা হয়ে
তোমার কন্ঠের আভরণ হয়,
অনুভূতির পরশে লেগে থাকা
যে মণি মুক্তগুলো !
হাঁসফাঁস করে বহতা নদীর জলে
একটু সিক্ত হওয়ার,
তুমি অনুভূতির গলা টিপে
কবিতার অঙ্গনে এসেছো,
এমন তো কথা ছিল না !
কথা ছিলো
চড়ুইয়ের ঠোঁটে ঠোঁট খুঁটে নেবে পৃথিবীর গান।
কথা ছিলো
জোনাকির আলো নিয়ে, দীপ জ্বালাবে
আমার শূন্য উঠোনে।
কথা ছিলো
গাছেদের শিরায় উপশিরায় ছড়িয়ে দেবে
সবুজাভ স্বপ্ন।
স্বপ্ন দেখার স্বপ্নটা খোলস ছেড়ে
বেরিয়ে আসতে চাইছে,
কথারা তো জলের মতোই নিচু, নতজানু !
নির্মোহ, নিরাসক্ত ।
পেঁজা তুলোর মতো হাল্কা হয়ে
যদি ভেসে যেতে নদীতে,
ধানক্ষেত, জোছনা, বনানীর অস্ফুট মর্মরধ্বনি
তোমার একার ঐশ্বর্য।