রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গঠনের জন্য ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এই সুযোগ আর দ্বিতীয়বার আসবে না। তাই এটি হারানো যাবে না।”
রোববার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “স্বাধীনতার পর অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বহু সংস্কার অপূর্ণ থেকে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের এমন এক মুহূর্ত এনে দিয়েছে, যা রাষ্ট্রকে জবাবদিহির কাঠামোয় পুনর্গঠনের জন্য আদর্শ সময়।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই শহীদরা যে মূল্য চুকিয়ে গেছেন, তা বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এখনই আমাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে আরও মানবিক, সমন্বিত এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উপযোগী করে তোলা।”
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা অতীতের মতো বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের পথে হাঁটবো না। বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বহু বছর ধরে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন সময় এসেছে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার।”
তিনি প্রশংসা করে বলেন, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার দায়িত্ব অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে পালন করছে, যা জাতির মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।”
ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণজাগরণ ও গণবিচারের জন্য এক ঐতিহাসিক মোড়। এই অভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে-রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ, এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় আমরা কেউ দায়মুক্ত নই।”
তিনি জানান, “এই অভ্যুত্থান জাতিকে অবিচারের বিরুদ্ধে একত্র করেছে। আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এই বর্বরতার বিচার নিশ্চিত করতে।”
সেমিনারে বিচার বিভাগের দক্ষতা, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিচার ব্যবস্থার করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, বিচারপতি ও নীতিনির্ধারকরা। তাঁরা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে বিচার বিভাগই অন্যতম স্তম্ভ। এবং সেটি নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত না হলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়।
গত জুলাই মাসে সংঘটিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ নামে পরিচিত গণআন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনায় দেশব্যাপী রাজনৈতিক চিত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নে একাধিক নীতি-সংলাপ এবং আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।